০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতারা।

ঘটনার সময় ও স্থান
শনিবার বেলা বারোটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে ওই শিক্ষককে আটক করেন চাকসু নেতারা। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, এর আগে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারি থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয়
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা শিক্ষক হাসান মাহমুদ রোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করানো, ছাত্রলীগকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকসু নেতারা ডিন অফিসে এসেছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত পরীক্ষার হল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চাকসু নেতাদের বক্তব্য
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই শিক্ষক পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান, তখন তাকে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার গার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হলো—এই প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে জানতে চায় চাকসু।

শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
আটকের বিষয়ে হাসান মাহমুদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে মব তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় তিনি হল ছেড়ে বের হতে চাইলে পেছন থেকে কয়েকজন তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

প্রক্টরের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা

০৮:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতারা।

ঘটনার সময় ও স্থান
শনিবার বেলা বারোটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে ওই শিক্ষককে আটক করেন চাকসু নেতারা। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, এর আগে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারি থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয়
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা শিক্ষক হাসান মাহমুদ রোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করানো, ছাত্রলীগকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকসু নেতারা ডিন অফিসে এসেছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত পরীক্ষার হল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চাকসু নেতাদের বক্তব্য
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই শিক্ষক পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান, তখন তাকে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার গার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হলো—এই প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে জানতে চায় চাকসু।

শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
আটকের বিষয়ে হাসান মাহমুদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে মব তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় তিনি হল ছেড়ে বের হতে চাইলে পেছন থেকে কয়েকজন তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

প্রক্টরের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।