০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি বৈদেশিক ঋণের চাপে বাংলাদেশ চরাচর মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ পুলিশের গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি ঈদযাত্রায় বাড়তে পারে হামের সংক্রমণ, সতর্ক করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ‘দ্য জাপানিজ ওয়ে অব প্যারেন্টিং’ বইয়ে জাপানি মাতৃত্বের অদৃশ্য শ্রম ও আধুনিক পরিবারের নতুন প্রশ্ন স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিখোঁজ বৃদ্ধদের অদৃশ্য ট্র্যাজেডি: বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া ও সমাজের ব্যর্থতা ই-কমার্স আইনে রাইড-হেইলিং অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ায়

কিস্তির টাকা নিয়ে অপমানের জেরে সুনামগঞ্জে তরুণের আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মাত্র ৫০০ টাকার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে অপমানের শিকার হয়ে এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষ পান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত তরুণের পরিচয়
নিহত তরুণের নাম জয় মহাপাত্র (১৯)। তিনি দিরাই উপজেলার ভাঙ্গাধর গ্রামের বাসিন্দা এবং লিটন মহাপাত্রের ছেলে।

মোবাইল কেনা ও কিস্তির চুক্তি
নিহতের চাচাতো ভাই অয়ন দাস জানান, জয় স্থানীয় একটি দোকান থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি মোবাইল ফোন কেনেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি প্রথমে ২ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করেন এবং বাকি ৩ হাজার ৫০০ টাকা সাপ্তাহিক ৫০০ টাকা করে কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে দেরি হয় তার।

দোকানে অপমান ও মারধরের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয় কিস্তির টাকা দিতে দোকানে গেলে দোকান মালিক আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জয়কে মারধর করা হয়, প্রকাশ্যে অপমান করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ভাষাগতভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়।

বিষ পান ও চিকিৎসা
ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জয়। পরিবারের অভিযোগ, দোকান থেকেই ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়িতে গিয়ে তা পান করেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষ পান করার কথা স্বীকার করলে তাকে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে সিলেটে পাঠানো হয়।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মণি রানি তালুকদার জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়েছিল।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহতের চাচা মিঠু মহাপাত্র জানান, সিলেটে থাকা জয়ের বাবার সঙ্গে আলোচনা করে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। জয়ের মা শেলি মহাপাত্র অভিযোগ করেন, দোকানে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণেই তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

দোকান মালিকের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে দোকান মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, জয়ের কাছে তার মোবাইল বাবদ এখনও ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ফ্লেক্সিলোড বাবদ ৩০০ টাকা পাওনা ছিল। তিনি দাবি করেন, জয় বিষ চাইলে তিনি দোকানে বিষ নেই বলে জানিয়ে দেন এবং কোনো বিষ দেননি।

পুলিশের অবস্থান
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি

কিস্তির টাকা নিয়ে অপমানের জেরে সুনামগঞ্জে তরুণের আত্মহত্যা

১১:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মাত্র ৫০০ টাকার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে অপমানের শিকার হয়ে এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষ পান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত তরুণের পরিচয়
নিহত তরুণের নাম জয় মহাপাত্র (১৯)। তিনি দিরাই উপজেলার ভাঙ্গাধর গ্রামের বাসিন্দা এবং লিটন মহাপাত্রের ছেলে।

মোবাইল কেনা ও কিস্তির চুক্তি
নিহতের চাচাতো ভাই অয়ন দাস জানান, জয় স্থানীয় একটি দোকান থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি মোবাইল ফোন কেনেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি প্রথমে ২ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করেন এবং বাকি ৩ হাজার ৫০০ টাকা সাপ্তাহিক ৫০০ টাকা করে কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে দেরি হয় তার।

দোকানে অপমান ও মারধরের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয় কিস্তির টাকা দিতে দোকানে গেলে দোকান মালিক আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জয়কে মারধর করা হয়, প্রকাশ্যে অপমান করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ভাষাগতভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়।

বিষ পান ও চিকিৎসা
ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জয়। পরিবারের অভিযোগ, দোকান থেকেই ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়িতে গিয়ে তা পান করেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষ পান করার কথা স্বীকার করলে তাকে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে সিলেটে পাঠানো হয়।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মণি রানি তালুকদার জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়েছিল।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহতের চাচা মিঠু মহাপাত্র জানান, সিলেটে থাকা জয়ের বাবার সঙ্গে আলোচনা করে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। জয়ের মা শেলি মহাপাত্র অভিযোগ করেন, দোকানে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণেই তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

দোকান মালিকের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে দোকান মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, জয়ের কাছে তার মোবাইল বাবদ এখনও ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ফ্লেক্সিলোড বাবদ ৩০০ টাকা পাওনা ছিল। তিনি দাবি করেন, জয় বিষ চাইলে তিনি দোকানে বিষ নেই বলে জানিয়ে দেন এবং কোনো বিষ দেননি।

পুলিশের অবস্থান
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।