০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে ইন্দোনেশিয়ার ‘লিটল টেক্সাসে’ এখনো চলে পুরোনো পদ্ধতিতে তেল উত্তোলন বন্দর যখন যুদ্ধক্ষেত্র: নতুন ভূরাজনীতির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন আস্থার নিরাপত্তা আমাজনের বনের গভীরে লুকিয়ে থাকা হাজার বছরের রহস্য, লেজারে মিলল প্রাচীন সভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শন দক্ষিণ কোরিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বিভ্রাটের কারণ ছিল যোগাযোগের ভুল বন ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্সে কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ইরানের নতুন কৌশল, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়াতে সক্রিয় মিত্র গোষ্ঠীগুলো মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য

ইরানে বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক প্রাণহানি, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির কারণে হেরেছিলাম: ট্রাম্প

মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব ও গ্রেপ্তারের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত চার শত নব্বই জন প্রতিবাদকারী এবং আটচল্লিশ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়েছে দশ হাজারের বেশি মানুষ। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। স্বাধীনভাবে এই হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও তেহরানের পাল্টা সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপ, সাইবার হামলা ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে আক্রমণ হলে দখলকৃত অঞ্চলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শাসনবিরোধী আন্দোলন

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন শাসনের বিরুদ্ধে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে এ ধরনের বড় বিক্ষোভ খুব কমই দেখা গেছে। সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করে দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

রাজপথের দৃশ্য ও রাষ্ট্রের ভাষ্য

তেহরান ও মাশহাদের রাস্তায় রাতের আঁধারে মানুষের ঢল, আগুনের ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী প্রতিবাদকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ দেখিয়ে নিহতদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকায় এসে রোজা রাখবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ইসরায়েলের সতর্কতা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে সহিংসতার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিদেশি শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ হয়তো শাসনব্যবস্থা উৎখাত করবে না, তবে রাষ্ট্রকে আগের চেয়ে দুর্বল করে তুলবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে

ইরানে বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক প্রাণহানি, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

০৩:১৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির কারণে হেরেছিলাম: ট্রাম্প

মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব ও গ্রেপ্তারের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত চার শত নব্বই জন প্রতিবাদকারী এবং আটচল্লিশ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়েছে দশ হাজারের বেশি মানুষ। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। স্বাধীনভাবে এই হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও তেহরানের পাল্টা সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপ, সাইবার হামলা ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে আক্রমণ হলে দখলকৃত অঞ্চলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শাসনবিরোধী আন্দোলন

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন শাসনের বিরুদ্ধে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে এ ধরনের বড় বিক্ষোভ খুব কমই দেখা গেছে। সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করে দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

রাজপথের দৃশ্য ও রাষ্ট্রের ভাষ্য

তেহরান ও মাশহাদের রাস্তায় রাতের আঁধারে মানুষের ঢল, আগুনের ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী প্রতিবাদকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ দেখিয়ে নিহতদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকায় এসে রোজা রাখবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ইসরায়েলের সতর্কতা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে সহিংসতার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিদেশি শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ হয়তো শাসনব্যবস্থা উৎখাত করবে না, তবে রাষ্ট্রকে আগের চেয়ে দুর্বল করে তুলবে।