ইরানে চলমান গণবিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব ও গ্রেপ্তারের চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত চার শত নব্বই জন প্রতিবাদকারী এবং আটচল্লিশ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়েছে দশ হাজারের বেশি মানুষ। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। স্বাধীনভাবে এই হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও তেহরানের পাল্টা সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপ, সাইবার হামলা ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে আক্রমণ হলে দখলকৃত অঞ্চলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শাসনবিরোধী আন্দোলন
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন শাসনের বিরুদ্ধে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে এ ধরনের বড় বিক্ষোভ খুব কমই দেখা গেছে। সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করে দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
রাজপথের দৃশ্য ও রাষ্ট্রের ভাষ্য
তেহরান ও মাশহাদের রাস্তায় রাতের আঁধারে মানুষের ঢল, আগুনের ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী প্রতিবাদকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ দেখিয়ে নিহতদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ইসরায়েলের সতর্কতা
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে সহিংসতার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিদেশি শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ হয়তো শাসনব্যবস্থা উৎখাত করবে না, তবে রাষ্ট্রকে আগের চেয়ে দুর্বল করে তুলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















