ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে দেশটির কংগ্রেসে বাড়ছে সন্দেহ। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দুই দলের একাধিক মার্কিন সেনেটর প্রকাশ্যে বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ উল্টো পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে ইরানের আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভ এবং হোয়াইট হাউসের নীতিগত অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামরিক পদক্ষেপে সতর্কতার বার্তা
সাম্প্রতিক দিনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে সামরিক হামলা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল। তাঁর মতে, ইরানে বোমা হামলা চালালে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। বরং এতে বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ একত্রিত হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান সরকারকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তিনি মনে করেন, সামরিক আঘাত ইরানের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী করে তুলতে পারে এমনভাবে, যা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীও এখনো করতে পারেনি। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উনিশশো তিপ্পান্ন সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের সরকার উৎখাতের ঘটনাই পরবর্তী কয়েক দশকে দেশটিতে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল।
কূটনৈতিক চাপে জোর দেওয়ার আহ্বান
মার্ক ওয়ার্নারের মতে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পথের বদলে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যকর হতে পারে। ইউরোপসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য, একতরফা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি

তবে সব সেনেটর এই মতের সঙ্গে একমত নন। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম মনে করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগানো এবং শাসকগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো জরুরি। তিনি সরাসরি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন, যা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইরান নিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্পগুলো নিয়ে তাঁকে শিগগিরই বিস্তারিত ব্রিফ করা হতে পারে। এর মধ্যে সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক আলোচনায় রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এতে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
রাজতন্ত্র উত্তরাধিকারীর ঘোষণা
ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও নতুন বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজনে ইরানে ফেরার জন্য তিনি প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনগণ যেন নিজেরাই নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে, সেই পথ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















