আমেরিকার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আয়োজনগুলো নতুন বছরে নিজেদের বদলে নিচ্ছে। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে তারা এবার পডকাস্টকে সামনে আনছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি গোল্ডেন গ্লোবস প্রথমবারের মতো সেরা পডকাস্ট পুরস্কার দিতে যাচ্ছে। বহু দশক ধরে সিনেমা ও টেলিভিশনের সাফল্য উদযাপন করা এই আয়োজন হঠাৎ করে নতুন মাধ্যমে কেন নজর দিল, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পডকাস্ট
পডকাস্ট এখন আর শুধু শোনার বিষয় নয়, এটি তারকাদের প্রচারণার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। নতুন সিনেমা বা ধারাবাহিকের প্রচারে রাতের টক শোর মতোই পডকাস্টে হাজিরা দেওয়া হয়ে উঠেছে নিয়মিত চর্চা। জনপ্রিয় রাজনীতি থেকে বিনোদন, সর্বত্র এই মাধ্যমের প্রভাব চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পডকাস্ট শুধু জনমত গঠনের ক্ষেত্রই নয়, রাজনৈতিক আলোচনাতেও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

পর্দা থেকে কানে, কানের পথেই আবার পর্দায়
অনেক চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের জন্মই হয়েছে জনপ্রিয় পডকাস্ট থেকে। সত্য ঘটনা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা ব্যক্তিগত গল্প, এই মাধ্যমের শক্তিশালী কনটেন্ট পর্দায় রূপ পেয়েছে বারবার। এমনকি পডকাস্টের অডিও সীমা ভেঙে এখন দৃশ্যমান মাধ্যমেও রূপ নিচ্ছে। বিপুল দর্শক নিয়মিত ভিডিও আকারে পডকাস্ট দেখছেন, যা এই মাধ্যমের বিস্তারের প্রমাণ।
মনোনয়নে তারকার ভিড়
গোল্ডেন গ্লোবসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাওয়া পডকাস্টগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বেশির ভাগই তারকাদের আড্ডাভিত্তিক অনুষ্ঠান, যেখানে এক তারকা আরেক তারকার সঙ্গে গল্প করেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, হাস্যরস আর পারস্পরিক প্রশংসায় ভরা এসব আলোচনা শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হলেও গভীর অনুসন্ধান বা নতুন গল্প বলার জায়গা সেখানে সীমিত। ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছে একটি দৈনিক সংবাদভিত্তিক পডকাস্ট, যা তুলনামূলকভাবে আলাদা ধারার।

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ জমা দেয়, এরপর বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা সেগুলো বিচার করেন। কিন্তু পডকাস্টের ক্ষেত্রে ভিন্ন পথ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করে সেখান থেকে মনোনয়ন বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, জনপ্রিয়তা আর উৎকর্ষ কি এক জিনিস। আগেও তো গোল্ডেন গ্লোবস আলাদা করে সেরা ছবি আর বাণিজ্যিক সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
হারিয়ে যাচ্ছে গল্প বলার বৈচিত্র্য
একসময় যে পডকাস্টগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, শব্দ নকশা আর গভীর গল্প বলার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল, সেগুলোর ছাপ এই তালিকায় খুব কম। খুনের রহস্য অনুসন্ধান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা সংগীতশিল্পীর জীবনকথা, এসব উদ্ভাবনী কাজই পডকাস্টকে জনপ্রিয় করেছিল। কিন্তু তারকাকেন্দ্রিক আলোচনার ভিড়ে সেই বৈচিত্র্য চাপা পড়ছে।

সহজ বিনোদন না কি ভবিষ্যতের ঝুঁকি
তারকাদের খোলামেলা আড্ডা মানুষ উপভোগ করে, এতে সন্দেহ নেই। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে পেছনে চালিয়ে রাখার জন্য এসব অনুষ্ঠান জনপ্রিয়। কিন্তু সমালোচকেরা মনে করছেন, এই সহজ ফর্মুলার আধিক্য ভবিষ্যতে সৃজনশীল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বড় নামের জোরে কম খরচে অনুষ্ঠান বানানো হলে নতুন ধারার পডকাস্ট তৈরি ও টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্বীকৃতির সুযোগ নষ্ট
গোল্ডেন গ্লোবস নতুন মাধ্যমকে স্বীকৃতি দিতে চাওয়ায় প্রশংসা পাচ্ছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগে যেমন জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাহসী ও মৌলিক কাজের জায়গা থাকে, পডকাস্ট বিভাগে সেই ভারসাম্য অনুপস্থিত। সমালোচকদের মতে, এটি একটি বড় সুযোগ ছিল পডকাস্টের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















