শরীর গড়ার গল্পটা এখানে কেবল পেশির নয়, মানসিক দৃঢ়তারও। ব্রিটিশ মিশরীয় অভিনেতা আমির এল-মাসরি নতুন ছবিতে কিংবদন্তি বক্সার **প্রিন্স নাসিম হামেদ**কে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজেকে ঢেলে দিয়েছেন এক কঠোর নিয়মে। অভিনয়ের প্রস্তুতিতে তিনি বেছে নেন সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন, যেখানে ফোকাস, শৃঙ্খলা আর আত্মসংযমই ছিল মূল চাবিকাঠি।
ভোরের শুরু, সন্ধ্যা পর্যন্ত লড়াই
চিত্রায়নের আগে টানা কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন ভোর ছয়টায় ঘুম ভাঙা ছিল নিয়ম। রবিবার বাদে সকাল সাতটায় জিমে ঢুকে শুরু হতো দীর্ঘ অনুশীলন। আধা ঘণ্টা দড়ি লাফ, এরপর ওজন তোলা আর সার্কিট প্রশিক্ষণ। দিনের পর দিন এই ধারাবাহিকতায় শরীর যেমন বদলেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে লড়াকু মানসিকতা। অনুশীলনের ফাঁকে কোচদের সঙ্গে বসে প্রিন্স নাসিমের লড়াইয়ের ভিডিও দেখে দেখা হতো প্রতিটি অদ্ভুত ভঙ্গি, দ্রুত পায়ের কাজ আর অনিয়মিত নড়াচড়া।

নকল নয়, হয়ে ওঠার চেষ্টা
এই প্রস্তুতি সাধারণ বক্সিং শেখার জন্য ছিল না। লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট একজন বক্সারের মতো হয়ে ওঠা। প্রিন্স নাসিমের অনন্য স্টাইল নকল না করে শরীরে ধারণ করাই ছিল চ্যালেঞ্জ। তাই মৌলিক বক্সিং শেখার পর ধীরে ধীরে রপ্ত করা হয় তাঁর বিশেষ নড়াচড়া। ব্যাগে ঘুষি, আবার ওজন তোলা—এই চক্র চলত দিনের পর দিন।
সাধারণ জিম, কঠিন শৃঙ্খলা
কোনো ঝলমলে আলো বা আধুনিক যন্ত্রপাতি নয়। লন্ডনের ডেপটফোর্ড আর লিডসের সাধারণ বক্সিং জিমে ঘাম ঝরেছে সবচেয়ে বেশি। এই পরিশ্রমে অভিনেতা বুঝেছেন, বক্সিং একাই শরীরের সব প্রয়োজন মেটায়। চোখ আর হাতের সমন্বয়, গতি, ক্ষিপ্রতা আর শক্তি—সব একসঙ্গে গড়ে তোলে।
কোচের ছায়ায় প্রিন্স নাসিম

ছবিতে প্রিন্স নাসিমের জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উঠে এসেছে তাঁর কোচ ব্রেন্ডন ইংলের সঙ্গে সম্পর্ক। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন পিয়ার্স ব্রসনান। শেফিল্ডের ইনগল বক্সিং জিমের মেঝেতে আঁকা রেখা আর বৃত্ত অনুসরণ করে পায়ের কাজ শেখা ছিল প্রস্তুতির অংশ। সেই নকশাই অনুশীলনে ব্যবহার করে গতি আর হালকা পায়ের চলন আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছেন আমির এল-মাসরি।
খাদ্যাভ্যাস আর আত্মসংযম
এই রূপান্তরের পেছনে ছিল কড়া খাদ্যনিয়ম। দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়া, প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রস্তুত খাবার আর ক্যালোরির হিসাব নিজেই ঠিক করতেন তিনি। কখনো সন্ধ্যায় কোচদের সঙ্গে বাইরে খাওয়া হলেও সেটিও ছিল পরিকল্পনার অংশ। শুটিংয়ের কাছাকাছি সময়ে আবার শুরু করেছেন উপবাসভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, যা তাঁকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করেছে।

ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস
দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল মিলেছে সেটে দাঁড়ানোর সময়। শুরুতে নার্ভাস হলেও অতিরিক্ত অনুশীলন তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। লড়াইয়ের দৃশ্যে কী করতে হবে, কখন করতে হবে—সব যেন শরীর নিজেই জানত। দিনের শেষে প্রি-ওয়ার্কআউট পানীয়ের তেতো স্বাদেও হাসি লুকোতে পারেননি তিনি, কারণ জানতেন নির্দিষ্ট সময়ের পর খাবারের জানালা খুলবেই।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















