০২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার রাজ্যগুলোতে ওষুধের ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ শিল্প, প্রতারণা আর প্রতিশোধের গল্প: ‘দ্য ক্রিস্টোফারস’-এ ভিন্ন এক মানসিক লড়াই কোচেল্লায় গোপনে হাজির টিমোথি, কাইলির পাশে ধরা পড়লেন অবশেষে নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা তুসনের দরজায় প্রকৃতির হাতছানি, মরুভূমি থেকে পাহাড়—অভিযানের অনন্য গন্তব্য বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ মার্চে শেয়ারবাজার ধস, ডিএসইএক্স সূচকে বড় পতন বাখের অজানা সুরের গভীরতা: নতুনভাবে ফিরে আসছে ‘ক্লাভিয়ার-উবুং থ্রি’ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত

শিশু সুরক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল আইন, বিশ্বে উদাহরণ তৈরি করল

তথ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই সময়ে অনলাইন জগতে শিশুদের সুরক্ষা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতায় শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত যে আইন প্রণয়ন করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অগ্রসর ও কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিজিটাল বিচারিক সার্বভৌমত্বের ওপর জোর

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা ফোরামে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাইবার অপরাধ যেহেতু সীমান্ত মানে না, তাই শিশু সুরক্ষায় ডিজিটাল বিচারিক সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। ফোরামে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আমিরাত সরকারের সাম্প্রতিক আইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর স্পষ্ট দায়বদ্ধতা আরোপ করেছে।

 

সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বে শীর্ষে আমিরাত

আমিরাত সরকারের সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আল কুয়েতি জানান, বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, সাংগঠনিক কাঠামো, আইনি পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এই পাঁচ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের সাইবার অবকাঠামো।

প্রতিদিন দুই লক্ষের বেশি সাইবার হামলা প্রতিহত

ফোরামে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে দুই লক্ষেরও বেশি সাইবার হামলা প্রতিহত করছে আমিরাত। এসব হামলার পেছনে রয়েছে সংগঠিত অপরাধী চক্র, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হ্যাকার, রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠী এবং অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি।

শিশু সুরক্ষার চারটি মূল ভিত্তি

ডা. আল কুয়েতি জানান, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতা, সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা, জাতীয় নীতি কাঠামো এবং গেমিং ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্মের সুশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আইন কার্যকর ও সামাজিক সচেতনতা

শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবুধাবি বিচার বিভাগ আয়োজিত এই ফোরামে নতুন আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ

ফোরামে বক্তারা বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উন্নত অবকাঠামো ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সাইবার প্রস্তুত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার রাজ্যগুলোতে ওষুধের ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ

শিশু সুরক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল আইন, বিশ্বে উদাহরণ তৈরি করল

০৫:৩০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

তথ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই সময়ে অনলাইন জগতে শিশুদের সুরক্ষা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতায় শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত যে আইন প্রণয়ন করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অগ্রসর ও কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিজিটাল বিচারিক সার্বভৌমত্বের ওপর জোর

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা ফোরামে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাইবার অপরাধ যেহেতু সীমান্ত মানে না, তাই শিশু সুরক্ষায় ডিজিটাল বিচারিক সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। ফোরামে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আমিরাত সরকারের সাম্প্রতিক আইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর স্পষ্ট দায়বদ্ধতা আরোপ করেছে।

 

সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বে শীর্ষে আমিরাত

আমিরাত সরকারের সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আল কুয়েতি জানান, বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, সাংগঠনিক কাঠামো, আইনি পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এই পাঁচ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের সাইবার অবকাঠামো।

প্রতিদিন দুই লক্ষের বেশি সাইবার হামলা প্রতিহত

ফোরামে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে দুই লক্ষেরও বেশি সাইবার হামলা প্রতিহত করছে আমিরাত। এসব হামলার পেছনে রয়েছে সংগঠিত অপরাধী চক্র, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হ্যাকার, রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠী এবং অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি।

শিশু সুরক্ষার চারটি মূল ভিত্তি

ডা. আল কুয়েতি জানান, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতা, সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা, জাতীয় নীতি কাঠামো এবং গেমিং ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্মের সুশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আইন কার্যকর ও সামাজিক সচেতনতা

শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবুধাবি বিচার বিভাগ আয়োজিত এই ফোরামে নতুন আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ

ফোরামে বক্তারা বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উন্নত অবকাঠামো ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সাইবার প্রস্তুত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।