০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ডলারের চাহিদা বাড়ায় ফের চাপে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, এলসি নিষ্পত্তিতে বাড়ছে ব্যয় বরিশালে রহস্যজনক বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত, তদন্তে পুলিশ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদের ভাষায় ‘হাসিনার প্রতিধ্বনি’ দেখছেন ফখরুল, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সংঘাত এড়ানোর আহ্বান এনবিআরের নতুন নির্দেশনা: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন বিআইএনে রূপান্তর বাধ্যতামূলক, আমদানি-রপ্তানিতে বিঘ্ন হবে না ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৫৮০; দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত: শামা ওবায়েদ মাগুরায় গ্যাসের চুলার আগুনে পুড়ে নিহত ১, দগ্ধ স্ত্রী-ছেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অপেক্ষায় ইসি, স্থানীয় সরকার ভোটে এখনো সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা নেই চীনের নতুন চিপ-নকশা সুরক্ষা আইন, লক্ষ্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা

দুবাই আমাকে জাগিয়ে তোলে: ভয় ছাপিয়ে জীবনের নতুন মানচিত্রে উইল স্মিথ

দুবাইয়ে নামলেই আমি জেগে উঠি। সৃষ্টি করতে মন চায়—এই কথাটা কোনো সিনেমার সেট থেকে নয়, জীবনের প্রান্তর থেকেই বলছিলেন উইল স্মিথ। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর প্রামাণ্য ধারাবাহিকের প্রদর্শনীর আগে দুবাইয়ের টেকসই নগরীতে কথা বলার সময় বোঝা গেল, এ শহর তাঁর কাছে কেবল পটভূমি নয়; সম্ভাবনার পরীক্ষাগার।

ভয় পেরোনোর এক লাফ

চল্লিশের কোঠায় এসে দুবাইয়ে আকাশে ঝাঁপ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বেশির ভাগ মানুষের কাছে এমন অভিজ্ঞতা মাঝবয়সের রোমাঞ্চ হলেও তাঁর কাছে তা ছিল নিজেকে নতুন করে মাপা। দীর্ঘদিনের ভয় ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লাফ ভেতরে কিছু বদলে দেয়—ভয়ের জায়গায় জন্ম নেয় সাহস।

দ্বিতীয় বাড়ির অনুভূতি

দুবাইকে তিনি বহুদিন ধরেই দ্বিতীয় বাড়ি বলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসছেন, যখন চারদিকে কেবল ক্রেন আর নির্মাণের শব্দ। কল্পনার সীমা ঠেলে দেওয়ার যে স্পর্ধা এ শহরের, সেটাই তাঁকে টানে। এই আত্মবিশ্বাস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনে।

পর্বত আর মানুষের সক্ষমতা

মেরু থেকে মেরু যাত্রার পথে হিমালয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন শিক্ষা দেয়। বারো হাজার ফুট থেকে চৌদ্দ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠতে গিয়ে তিনি হেঁটে নয়, হামাগুড়ি দিয়েই এগোচ্ছিলেন। অথচ সত্তর বছরের এক নারী স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করছিলেন। তখনই বুঝেছেন, মানুষের শরীর কতটা মানিয়ে নিতে পারে, আর আমরা নিজেরাই নিজেদের সীমা ছোট করে দেখি।

ভয়ের কারাগার ভাঙা

এ শিক্ষা কেবল শারীরিক নয়। ভয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আরও দুটো পা এগোনো আটকে দেয়, জীবনের উঁচুতে ওঠার আনন্দ কেড়ে নেয়। ভয় থাকলে সুখের শিখরে পৌঁছানো যায় না—এই উপলব্ধিই তাঁর যাত্রার কেন্দ্র।

স্পর্ধার শহর, স্পর্ধার মানুষ

ইস্পাত আর বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুবাই নিজেই এক সাহসী ঘোষণা। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই মানসিকতা তাঁকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বৈশ্বিক নগর গড়ার স্বপ্ন আর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রাণের শহর

পছন্দের শহর জানতে চাইলে তিনি দ্বিধাহীন। মিয়ামি আর দুবাই—এই দুই জায়গাতেই তিনি নিজেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখেন, জীবন্ত অনুভব করেন। এই শক্তিই দুবাইকে তাঁর কাছে কেবল অবস্থান নয়, সৃষ্টির অনুঘটক বানিয়েছে। ভবিষ্যতেও এখানেই থাকবেন—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়, ঝলক নয়—এ গল্প শক্তি, কৌতূহল আর সীমা ঠেলে দেওয়ার। প্রতিটি লাফ, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে সম্ভাবনার আরও কাছে নেয়। দুবাইয়ে নামলেই তিনি জেগে ওঠেন—সৃষ্টি করতে প্রস্তুত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলারের চাহিদা বাড়ায় ফের চাপে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, এলসি নিষ্পত্তিতে বাড়ছে ব্যয়

দুবাই আমাকে জাগিয়ে তোলে: ভয় ছাপিয়ে জীবনের নতুন মানচিত্রে উইল স্মিথ

০৬:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দুবাইয়ে নামলেই আমি জেগে উঠি। সৃষ্টি করতে মন চায়—এই কথাটা কোনো সিনেমার সেট থেকে নয়, জীবনের প্রান্তর থেকেই বলছিলেন উইল স্মিথ। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর প্রামাণ্য ধারাবাহিকের প্রদর্শনীর আগে দুবাইয়ের টেকসই নগরীতে কথা বলার সময় বোঝা গেল, এ শহর তাঁর কাছে কেবল পটভূমি নয়; সম্ভাবনার পরীক্ষাগার।

ভয় পেরোনোর এক লাফ

চল্লিশের কোঠায় এসে দুবাইয়ে আকাশে ঝাঁপ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বেশির ভাগ মানুষের কাছে এমন অভিজ্ঞতা মাঝবয়সের রোমাঞ্চ হলেও তাঁর কাছে তা ছিল নিজেকে নতুন করে মাপা। দীর্ঘদিনের ভয় ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লাফ ভেতরে কিছু বদলে দেয়—ভয়ের জায়গায় জন্ম নেয় সাহস।

দ্বিতীয় বাড়ির অনুভূতি

দুবাইকে তিনি বহুদিন ধরেই দ্বিতীয় বাড়ি বলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসছেন, যখন চারদিকে কেবল ক্রেন আর নির্মাণের শব্দ। কল্পনার সীমা ঠেলে দেওয়ার যে স্পর্ধা এ শহরের, সেটাই তাঁকে টানে। এই আত্মবিশ্বাস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনে।

পর্বত আর মানুষের সক্ষমতা

মেরু থেকে মেরু যাত্রার পথে হিমালয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন শিক্ষা দেয়। বারো হাজার ফুট থেকে চৌদ্দ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠতে গিয়ে তিনি হেঁটে নয়, হামাগুড়ি দিয়েই এগোচ্ছিলেন। অথচ সত্তর বছরের এক নারী স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করছিলেন। তখনই বুঝেছেন, মানুষের শরীর কতটা মানিয়ে নিতে পারে, আর আমরা নিজেরাই নিজেদের সীমা ছোট করে দেখি।

ভয়ের কারাগার ভাঙা

এ শিক্ষা কেবল শারীরিক নয়। ভয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আরও দুটো পা এগোনো আটকে দেয়, জীবনের উঁচুতে ওঠার আনন্দ কেড়ে নেয়। ভয় থাকলে সুখের শিখরে পৌঁছানো যায় না—এই উপলব্ধিই তাঁর যাত্রার কেন্দ্র।

স্পর্ধার শহর, স্পর্ধার মানুষ

ইস্পাত আর বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুবাই নিজেই এক সাহসী ঘোষণা। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই মানসিকতা তাঁকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বৈশ্বিক নগর গড়ার স্বপ্ন আর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রাণের শহর

পছন্দের শহর জানতে চাইলে তিনি দ্বিধাহীন। মিয়ামি আর দুবাই—এই দুই জায়গাতেই তিনি নিজেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখেন, জীবন্ত অনুভব করেন। এই শক্তিই দুবাইকে তাঁর কাছে কেবল অবস্থান নয়, সৃষ্টির অনুঘটক বানিয়েছে। ভবিষ্যতেও এখানেই থাকবেন—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়, ঝলক নয়—এ গল্প শক্তি, কৌতূহল আর সীমা ঠেলে দেওয়ার। প্রতিটি লাফ, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে সম্ভাবনার আরও কাছে নেয়। দুবাইয়ে নামলেই তিনি জেগে ওঠেন—সৃষ্টি করতে প্রস্তুত হন।