০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন পর্যটনে গতির নতুন অধ্যায় আবুধাবি, ২০৩০ লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে আমিরাত ধস নামা আবর্জনার পাহাড়ে নিভছে আশার আলো, সেবুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ল শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস মোংলায় খালেদা জিয়ার মাগফিরাত মাহফিলে হামলা, খাবার লুট, আহত দুই চার মিশনের প্রেস কর্মকর্তা প্রত্যাহার, দেশে ফেরার নির্দেশ সরকারের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার আগামী নির্বাচনে নারীদের সমর্থন জামায়াতের দিকে যাবে: শফিকুর রহমান কুসুমপুর বাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণায় উচ্ছেদ আতঙ্ক, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ

দুবাই আমাকে জাগিয়ে তোলে: ভয় ছাপিয়ে জীবনের নতুন মানচিত্রে উইল স্মিথ

দুবাইয়ে নামলেই আমি জেগে উঠি। সৃষ্টি করতে মন চায়—এই কথাটা কোনো সিনেমার সেট থেকে নয়, জীবনের প্রান্তর থেকেই বলছিলেন উইল স্মিথ। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর প্রামাণ্য ধারাবাহিকের প্রদর্শনীর আগে দুবাইয়ের টেকসই নগরীতে কথা বলার সময় বোঝা গেল, এ শহর তাঁর কাছে কেবল পটভূমি নয়; সম্ভাবনার পরীক্ষাগার।

ভয় পেরোনোর এক লাফ

চল্লিশের কোঠায় এসে দুবাইয়ে আকাশে ঝাঁপ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বেশির ভাগ মানুষের কাছে এমন অভিজ্ঞতা মাঝবয়সের রোমাঞ্চ হলেও তাঁর কাছে তা ছিল নিজেকে নতুন করে মাপা। দীর্ঘদিনের ভয় ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লাফ ভেতরে কিছু বদলে দেয়—ভয়ের জায়গায় জন্ম নেয় সাহস।

দ্বিতীয় বাড়ির অনুভূতি

দুবাইকে তিনি বহুদিন ধরেই দ্বিতীয় বাড়ি বলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসছেন, যখন চারদিকে কেবল ক্রেন আর নির্মাণের শব্দ। কল্পনার সীমা ঠেলে দেওয়ার যে স্পর্ধা এ শহরের, সেটাই তাঁকে টানে। এই আত্মবিশ্বাস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনে।

পর্বত আর মানুষের সক্ষমতা

মেরু থেকে মেরু যাত্রার পথে হিমালয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন শিক্ষা দেয়। বারো হাজার ফুট থেকে চৌদ্দ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠতে গিয়ে তিনি হেঁটে নয়, হামাগুড়ি দিয়েই এগোচ্ছিলেন। অথচ সত্তর বছরের এক নারী স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করছিলেন। তখনই বুঝেছেন, মানুষের শরীর কতটা মানিয়ে নিতে পারে, আর আমরা নিজেরাই নিজেদের সীমা ছোট করে দেখি।

ভয়ের কারাগার ভাঙা

এ শিক্ষা কেবল শারীরিক নয়। ভয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আরও দুটো পা এগোনো আটকে দেয়, জীবনের উঁচুতে ওঠার আনন্দ কেড়ে নেয়। ভয় থাকলে সুখের শিখরে পৌঁছানো যায় না—এই উপলব্ধিই তাঁর যাত্রার কেন্দ্র।

স্পর্ধার শহর, স্পর্ধার মানুষ

ইস্পাত আর বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুবাই নিজেই এক সাহসী ঘোষণা। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই মানসিকতা তাঁকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বৈশ্বিক নগর গড়ার স্বপ্ন আর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রাণের শহর

পছন্দের শহর জানতে চাইলে তিনি দ্বিধাহীন। মিয়ামি আর দুবাই—এই দুই জায়গাতেই তিনি নিজেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখেন, জীবন্ত অনুভব করেন। এই শক্তিই দুবাইকে তাঁর কাছে কেবল অবস্থান নয়, সৃষ্টির অনুঘটক বানিয়েছে। ভবিষ্যতেও এখানেই থাকবেন—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়, ঝলক নয়—এ গল্প শক্তি, কৌতূহল আর সীমা ঠেলে দেওয়ার। প্রতিটি লাফ, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে সম্ভাবনার আরও কাছে নেয়। দুবাইয়ে নামলেই তিনি জেগে ওঠেন—সৃষ্টি করতে প্রস্তুত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন

দুবাই আমাকে জাগিয়ে তোলে: ভয় ছাপিয়ে জীবনের নতুন মানচিত্রে উইল স্মিথ

০৬:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দুবাইয়ে নামলেই আমি জেগে উঠি। সৃষ্টি করতে মন চায়—এই কথাটা কোনো সিনেমার সেট থেকে নয়, জীবনের প্রান্তর থেকেই বলছিলেন উইল স্মিথ। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর প্রামাণ্য ধারাবাহিকের প্রদর্শনীর আগে দুবাইয়ের টেকসই নগরীতে কথা বলার সময় বোঝা গেল, এ শহর তাঁর কাছে কেবল পটভূমি নয়; সম্ভাবনার পরীক্ষাগার।

ভয় পেরোনোর এক লাফ

চল্লিশের কোঠায় এসে দুবাইয়ে আকাশে ঝাঁপ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বেশির ভাগ মানুষের কাছে এমন অভিজ্ঞতা মাঝবয়সের রোমাঞ্চ হলেও তাঁর কাছে তা ছিল নিজেকে নতুন করে মাপা। দীর্ঘদিনের ভয় ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লাফ ভেতরে কিছু বদলে দেয়—ভয়ের জায়গায় জন্ম নেয় সাহস।

দ্বিতীয় বাড়ির অনুভূতি

দুবাইকে তিনি বহুদিন ধরেই দ্বিতীয় বাড়ি বলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসছেন, যখন চারদিকে কেবল ক্রেন আর নির্মাণের শব্দ। কল্পনার সীমা ঠেলে দেওয়ার যে স্পর্ধা এ শহরের, সেটাই তাঁকে টানে। এই আত্মবিশ্বাস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনে।

পর্বত আর মানুষের সক্ষমতা

মেরু থেকে মেরু যাত্রার পথে হিমালয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন শিক্ষা দেয়। বারো হাজার ফুট থেকে চৌদ্দ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠতে গিয়ে তিনি হেঁটে নয়, হামাগুড়ি দিয়েই এগোচ্ছিলেন। অথচ সত্তর বছরের এক নারী স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করছিলেন। তখনই বুঝেছেন, মানুষের শরীর কতটা মানিয়ে নিতে পারে, আর আমরা নিজেরাই নিজেদের সীমা ছোট করে দেখি।

ভয়ের কারাগার ভাঙা

এ শিক্ষা কেবল শারীরিক নয়। ভয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আরও দুটো পা এগোনো আটকে দেয়, জীবনের উঁচুতে ওঠার আনন্দ কেড়ে নেয়। ভয় থাকলে সুখের শিখরে পৌঁছানো যায় না—এই উপলব্ধিই তাঁর যাত্রার কেন্দ্র।

স্পর্ধার শহর, স্পর্ধার মানুষ

ইস্পাত আর বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুবাই নিজেই এক সাহসী ঘোষণা। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই মানসিকতা তাঁকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বৈশ্বিক নগর গড়ার স্বপ্ন আর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রাণের শহর

পছন্দের শহর জানতে চাইলে তিনি দ্বিধাহীন। মিয়ামি আর দুবাই—এই দুই জায়গাতেই তিনি নিজেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখেন, জীবন্ত অনুভব করেন। এই শক্তিই দুবাইকে তাঁর কাছে কেবল অবস্থান নয়, সৃষ্টির অনুঘটক বানিয়েছে। ভবিষ্যতেও এখানেই থাকবেন—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়, ঝলক নয়—এ গল্প শক্তি, কৌতূহল আর সীমা ঠেলে দেওয়ার। প্রতিটি লাফ, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে সম্ভাবনার আরও কাছে নেয়। দুবাইয়ে নামলেই তিনি জেগে ওঠেন—সৃষ্টি করতে প্রস্তুত হন।