কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ হাউসে এই আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ
সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে থাকা স্ক্র্যাপ সংরক্ষণাগারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত ১২টার কিছু পরে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রামপ্রসাদ সেন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি
অগ্নিকাণ্ডের সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে কেন্দ্রে কর্মরত প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা সাজ্জাদ এবং কেমিস্ট রাকিব আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁরা জানান, আগুনের তীব্রতা ছিল বেশি এবং সবাই তখন আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দার বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে আগুন লাগার বিষয়টি বাইরে থেকেও দেখা যাচ্ছিল। তবে ভেতরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

রহস্যজনক আগুন নিয়ে প্রশ্ন
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি এই অগ্নিকাণ্ডকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রকল্প এলাকার ভেতরে টাউনশিপ নামে পরিচিত বিশাল আবাসিক এলাকা রয়েছে এবং সেখানে কোটি কোটি টাকার স্ক্র্যাপ সংরক্ষিত ছিল। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই স্ক্র্যাপ নিলাম নিয়ে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। সে সময় কয়েকজন কর্মকর্তা এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও অনেকে এখনো কর্মরত রয়েছেন। এসব কারণে কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থার ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের প্রকৌশলী মাহমুদ আলম। তিনি জানান, সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য কোনো মালামাল চোখে পড়েনি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















