ইউএনবি
আসন্ন নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি চরম হতাশাজনক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন ফোরামের নেতারা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, শেষ মুহূর্তে কয়েকজন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী প্রতিদ্ব্বন্দ্বিতায় এলেও সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত হতাশাজনক।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন সংকট: দলগুলোর অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নের ফারাক এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি’। সেখানে বিভিন্ন নারী অধিকার ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রায়ই ‘লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’-এর কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

ফোরামের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধী। তাদের মতে, বিশেষ কোটার মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার ব্যবস্থা নারীর প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ নয়। বরং সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্ব্বন্দ্বিতা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
তারা জানান, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশ এমন একটি নির্বাচন দেখছে, যেখানে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এটি শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই লজ্জাজনক।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে নারীরা তাদের ওপর কেন আস্থা রাখবে।
ফোরামের নেতা সামিনা ইয়াসমিন বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ, এমনকি তারও বেশি নারী। তার ভাষায়, যদি নারী ভোটারের হার ৫১ শতাংশ হয়, তাহলে নারীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা, তাদের সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করে তোলাই হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, জনসংখ্যার ৫১ শতাংশকে বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ শতাংশের ওপর ভর করে কি আদৌ ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব? এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন।

সামিনা ইয়াসমিন জানান, ফোরামটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সেই নারী নেত্রীদের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্ব্বন্দ্বিতা করছেন এবং সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে সেগুলো মোকাবিলা করছেন এবং ভবিষ্যতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কার্যকর পথ তৈরি করা যায়, তা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কম। এতে পুরো পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে ব্যর্থ হলে কোনো আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, এবার হয়তো তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই, তবে বিষয়টি উপেক্ষা করারও কোনো সুযোগ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















