দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন বানচালের এমন কোনো ষড়যন্ত্রে বিএনপি জড়াবে না এবং কোনো ফাঁদেও পা দেবে না।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগ
সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক দোয়া ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারাই নির্বাচনকে ব্যর্থ করতে সন্ত্রাস, হত্যা ও দলবদ্ধ হামলার পথ বেছে নিয়েছে। জনগণের মনোভাব তারা বুঝতে পেরেছে বলেই দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা
তিনি স্মরণ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপি ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিল। তার ভাষায়, তার বাড়িই তখন হাসপাতালের রূপ নিয়েছিল এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য একটানা তিনটি অ্যাম্বুলেন্স চলেছিল। এসব হামলার জন্য তিনি ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দায়ী করেন।
খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা
মির্জা আব্বাস বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চরম নির্যাতন ও অবিচারের মধ্যেও দেশ ছেড়ে যাননি। নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি দল ও দেশকে রক্ষা করেছেন। অথচ সেই ত্যাগের জন্য তার প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা দেখানো হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিনের নিপীড়নের অভিযোগ
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দলের বহু নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র এখনও চলমান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কথা বললেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নেতাদের ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। নিজেকে লক্ষ্য করে অপপ্রচারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ার বিষয়টিকেও এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে যেন নির্বাচন কেবল তার এলাকাতেই হচ্ছে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের শুধু লাইক ও শেয়ার নয়, লিখে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের প্রসঙ্গ
ঢাকা-৮ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন অপরিণত লোক সংসদে গেলে কী হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
শেষ কথা
মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ঋণী। তার ত্যাগের কারণেই আজ বিএনপি কথা বলতে ও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















