ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটির ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থায় এখনো ভাঙনের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে চাপ সহ্য করেও বিশ্বের অন্যতম স্থিতিস্থাপক সরকার হিসেবে টিকে আছে তেহরানের ক্ষমতাকাঠামো।
নিরাপত্তা বলয়ের শক্ত ভিত
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও বসিজ মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষের কাছাকাছি সদস্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই বলয় রাষ্ট্রের প্রতি গভীর আনুগত্যে আবদ্ধ। ফলে রাস্তায় জনরোষ থাকলেও শীর্ষ পর্যায়ে ভাঙন ছাড়া ক্ষমতা বদলের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

হতাহতের সংখ্যা ও কঠোর দমন
সরকারি এক সূত্রের দাবি, চলমান বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা কম হলেও প্রাণহানি ও গ্রেপ্তারের মাত্রা অভূতপূর্ব। সহিংস দমন-পীড়ন ইরানি রাষ্ট্রের অবশিষ্ট বৈধতাকেও আরও ক্ষয় করেছে।
খামেনেই ও অতীতের অভিজ্ঞতা
ছিয়াশি বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই অতীতেও একাধিক বড় গণঅভ্যুত্থান টিকিয়ে রেখেছেন। দুই হাজার নয়ের পর এটি পঞ্চম বড় বিক্ষোভ, যা শাসনব্যবস্থার ভেতরের সংহতি যেমন দেখায়, তেমনি গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের কথাও সামনে আনে।

ট্রাম্পের হুমকি ও আন্তর্জাতিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়িয়েছেন। বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানি হলে হস্তক্ষেপ হতে পারে—এমন বার্তা ও শুল্ক আরোপের হুমকি তেহরানের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রহ আদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত।
টিকে থাকা মানেই স্থিতি নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকে থাকলেও ইরান স্থিতিশীল নয়। নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত, পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত, আর আঞ্চলিক মিত্রবলয় দুর্বল। সামনে পথ যে আরও কঠিন, তা মানছেন ইরান বিষয়ক বিশ্লেষকেরাই।
সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি
বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ হলে ইরানে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। কুর্দি ও বেলুচ অধ্যুষিত এলাকায় অস্থিরতা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। তাই আপাতত সব পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















