যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন করে গতি পাচ্ছে ডেমোক্র্যাট শিবির। প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখলের পথে তারা বাস্তবসম্মত সুযোগ দেখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, রিপাবলিকান সাংসদদের একের পর এক অবসর ঘোষণা এবং অল্প ব্যবধানে গড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা—সব মিলিয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে বলে ধারণা জোরালো হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থায় প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দুই শত আঠারো, ডেমোক্র্যাটদের দুই শত তেরো। কয়েকটি আসন শূন্য থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত নাজুক। এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের হাতে গাভেল ফেরাতে খুব বেশি আসন জয়ের প্রয়োজন নেই। ফলে সীমিত কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনই হয়ে উঠছে ক্ষমতা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
নির্দলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাথান গঞ্জালেসের মতে, এই নির্বাচনী চক্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ জয়ের সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তার ভাষায়, যখন অধিকাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট, তখন ক্ষমতাসীন দলের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার নেমে এসেছে মাত্র ছত্রিশ শতাংশে, যা রিপাবলিকানদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
অর্থনীতি ও বৈদেশিক পরিস্থিতির প্রভাব
মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। স্বাস্থ্যবিমা ব্যয় কম রাখতে ভর্তুকি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে দুই দলই আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মতো বৈদেশিক পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তও ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে। ইতিহাস বলছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায়ই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়, বিশেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনেই মূল লড়াই
যদিও প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনেই ভোট হবে, বাস্তবে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ কয়েক ডজন আসনে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র অল্প কিছু জেলা থেকেই নির্ধারিত হবে পুরো পরিষদের নিয়ন্ত্রণ। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী তহবিল শাখা রিপাবলিকানদের দখলে থাকা বহু আসনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে এমন এলাকাও, যেখানে সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন।
নিউইয়র্কের সপ্তদশ জেলা বিশেষ নজরে রয়েছে। সেখানে রিপাবলিকান সাংসদ মাইক ললার টানা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে টিকে আছেন, যদিও এলাকাটি শীর্ষ পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটঘেঁষা। ক্যালিফোর্নিয়া ও পেনসিলভানিয়ার একাধিক আসনও ডেমোক্র্যাটদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অবসর ও খালি আসনের চাপ
এই নির্বাচনী চক্রে ব্যতিক্রমী হারে বর্তমান সাংসদরা অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত সাংসদ পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যার বড় অংশ রিপাবলিকান। ফলে এমন অনেক খোলা আসন তৈরি হচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় দলটির জন্য নিরাপদ থাকত। নেব্রাস্কার ডন বেকনের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকান সাংসদের অবসর ঘোষণার পর তার জেলা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।

ডেমোক্র্যাট শিবিরেও কিছু অবসর রয়েছে। মেইনের দ্বিতীয় জেলার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জ্যারেড গোল্ডেন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রামীণ এই এলাকায় তিনি বারবার দলের গড় ভোটের চেয়ে ভালো ফল করলেও তার অবসরে রিপাবলিকানদের আশা বেড়েছে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণে জটিল হিসাব
নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে আঁকার বিষয়টি পুরো চিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে। টেক্সাসে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত নতুন মানচিত্রে রিপাবলিকানদের আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় রাজ্যব্যাপী সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, উটাহ ও মিসৌরির নতুন মানচিত্রও নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আশাবাদী, আর রিপাবলিকানরা ক্রমশ চাপের মুখে। কয়েকটি আসনের ওঠানামাই ঠিক করে দিতে পারে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















