কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষের ঘটনা ও নিহতদের পরিচয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আলিয়ারা গ্রামে স্থানীয় দুই জনপ্রতিনিধি আবুল খায়ের ও সালেহ আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ সহিংস রূপ নিলে ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন দেলোয়ার হোসেন নয়ন, বয়স পঁয়ত্রিশ বছর, এবং মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, বয়স উনত্রিশ বছর।
আহতদের অবস্থা
সংঘর্ষে আহত সাতজনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জোরদার
সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

দীর্ঘদিনের বিরোধের জের
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একই বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঘটেছে। গত বছরের আগস্ট মাসে একই দুটি পক্ষের সংঘর্ষে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিহত হন। তখন একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, আতঙ্কে বেশ কয়েকটি পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়দের মতে, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুদিন শান্ত থাকলেও সম্প্রতি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো গ্রামে ফিরে আসার পর আবারও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশের বক্তব্য
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















