জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তোলা অভিযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজনৈতিক আলোচনা ও আসন বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষের প্রতি অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় ধারাবাহিক আলোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু আসনের ঘোষণা একসঙ্গে দেওয়া হলেও কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্মিলিত। কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি এবং কোনো পক্ষকে ছোট করার প্রশ্নই ওঠে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানানোই ছিল ওই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বেগম জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা যেন নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকে।
শরিয়া আইন নিয়ে অভিযোগে বিভ্রান্তি
শরিয়া আইন চালুর অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইন কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই এবং ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগও নেই।
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাখ্যা
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না। সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে কয়েকটি আন্দোলনরত দলের মধ্যে একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছিল। সেখানে কোনো স্থায়ী কাঠামো বা একক নেতৃত্ব ছিল না। সভাপতিত্ব ও বক্তব্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হয়েছে, যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা উচিত।
বৈঠকে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এটিকে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনও আছে। ইসলামী দলগুলো ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেষে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















