ভোলার মনপুরা উপজেলায় প্রেমিককে বেঁধে রেখে তার প্রেমিকাকে রাতভর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার সময় ও এলাকা
গত বৃহস্পতিবার রাতে মনপুরা উপজেলার তিন নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার প্রেমিককে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে আসে।
মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও শারীরিক পরীক্ষা করার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান দুই আসামি স্থানীয় নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন। তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রধান দুই আসামির বাড়ি উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যে ঘটনার পটভূমি
ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজনেই চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কর্মরত। পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত বৃহস্পতিবার তরুণী তার প্রেমিকের সঙ্গে লঞ্চযোগে মনপুরায় আসেন। সেখানে প্রেমিক তাকে নিজের দাদির বাড়িতে রাখেন।
এই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অজুহাতে তাদের কাছ থেকে প্রথমে দুই লাখ টাকা এবং পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার রাতে লঞ্চে তুলে দেওয়ার কথা বলে তাদের লঞ্চঘাটে না নিয়ে তালতলী এলাকার একটি নির্জন বেড়িবাঁধে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে প্রেমিককে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে বেঁধে রাখা হয়। এরপর তাকে আটক অবস্থায় রেখে তার প্রেমিকাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এক পর্যায়ে তরুণী রক্তাক্ত ও অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি তৎপরতা
মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















