০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
অভিনয়ের আপস না করার জেদই তাঁকে শীর্ষে তুলেছে: ওয়াগনার মৌরার গোল্ডেন গ্লোব জয় প্রযুক্তি স্বনির্ভরতার পথে চীনের কড়া অবস্থান, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপে নতুন নিয়ন্ত্রণ শীতেও স্বস্তি নেই রান্নাঘরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নব্য ঔপনিবেশিকতা’,ভেনেজুয়েলা অভিযান  তিন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুইজনের, আহত অন্তত দশ চট্টগ্রামে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা সাভারের ইটভাটা চালু থাকায় ঝুঁকিতে ঢাকার বাতাস বিশ্বজুড়ে বিভ্রাটের পর আবার সচল এক্স, ভোগান্তিতে হাজারো ব্যবহারকারী উত্তর আটলান্টিকে নজরদারিতে নতুন অধ্যায়: চালকবিহীন হেলিকপ্টার উড়াল দিল ব্রিটিশ নৌবাহিনী ইরানে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর বিক্ষোভ স্তিমিত, গণফাঁসি স্থগিতের দাবি ট্রাম্পের

শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন যুগে ‘সুইং নেশন’ ঘিরে চীনের লাভ-ক্ষতির হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতির গতিপথে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রনেতাকে অপহরণের সেই নাটকীয় ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক সংকটই নয়, বরং আগামী কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক শক্তি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলা সংকট ও চীনের কূটনৈতিক সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি চীনের অর্থনীতিনির্ভর কূটনীতির সীমাবদ্ধতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভেনেজুয়েলার সংকটে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, মহান শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন যুগেও প্রভাববলয় এখনো বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়ে গেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ বেইজিংয়ের সামনে থাকা বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিপরীতে নিজেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য পাল্টা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা চীনের রয়েছে, অঞ্চলটি ও গোটা গ্লোবাল সাউথজুড়ে তার বাস্তব সীমা এই ঘটনাতেই ফুটে উঠেছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান, প্রশ্নের মুখে চীনের নীরবতা

সুইং স্টেট ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই

মধ্যম শক্তিধর দেশ ও তথাকথিত সুইং স্টেটগুলো, যারা কোনো এক পরাশক্তির সঙ্গে পুরোপুরি সারিবদ্ধ নয়, তাদের ঘিরেই বর্তমানে প্রভাব বিস্তারের লড়াই সবচেয়ে তীব্র। এই প্রতিযোগিতায় চীন অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রপ্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে।

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল চীন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলও বিদেশে চীনা বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব বনাম নিরাপত্তা বাস্তবতা

প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীন এই অঞ্চলে তার উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম একটি ঐক্যবদ্ধ গ্লোবাল সাউথ গড়ে তোলা এবং বহুমেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার জন্য লাতিন আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন তার তথাকথিত নিজস্ব উঠানে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ায় একটি বড় ফাঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে চীন শক্তিশালী হলেও সংকটকালে অংশীদার দেশগুলোর জন্য কার্যকর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে বেইজিং এখনো পিছিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন ও চাপের কৌশল

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর হংকংভিত্তিক কংগ্লোমারেট সিকে হাচিসনকে পানামার বন্দরগুলোর অংশীদারত্ব বিক্রিতে চাপ দেওয়া হয়। একই সময়ে বলিভিয়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে করা লিথিয়াম চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে চীনসমর্থিত মহাকাশ ও টেলিযোগাযোগ প্রকল্প স্থগিত রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ নিশ্চিত করেন।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতিতে সুইং স্টেটের  উত্থান

চীনের সীমিত সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ

সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাং ঝোংইং বলেন, আমেরিকার স্পষ্ট লাল রেখা হলো নিজস্ব প্রভাববলয়ের ভেতরে চীনের উপস্থিতি সীমিত রাখা। তাঁর মতে, চীনের ভেতরেই বিদেশি বিনিয়োগ মডেলের টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ইতিহাসবিদ রানা মিটার মনে করেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনা গোয়েন্দা সক্ষমতার ক্ষেত্রেও চীনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে কারাকাসের বিদ্যুৎব্যবস্থায় হামলা চালাতে পেরেছে, যা চীনের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

গ্লোবাল সাউথে ভারসাম্যের রাজনীতি

বিশ্লেষকেরা বলছেন, লাতিন আমেরিকা ও বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য চীনের দিকে ঝুঁকলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে এখনো যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রধান শক্তি হিসেবে দেখে। ফলে নিরাপত্তা অঙ্গীকার ছাড়া চীনের প্রকৃত প্রভাবের পরিধি কতটা, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্লেষক ফ্রান্স-পল ভ্যান ডার পুটেনের মতে, যার প্রভাব মূলত অর্থনৈতিক, সেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুরোপুরি সরাতে পারে না, এমনকি চাইলেও না। তাঁর ভাষায়, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ কোনো একক পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর বদলে দেশগুলোকে বিকল্প পথ খুঁজতে উৎসাহিত করে।

নতুন স্বাভাবিকতা কী

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাই নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার মধ্যে থেকেই এসব দেশ নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চাইছে।

ভবিষ্যতে চীন কীভাবে অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তা বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটিই গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে তার সম্পর্কের দিকনির্দেশ ঠিক করে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনয়ের আপস না করার জেদই তাঁকে শীর্ষে তুলেছে: ওয়াগনার মৌরার গোল্ডেন গ্লোব জয়

শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন যুগে ‘সুইং নেশন’ ঘিরে চীনের লাভ-ক্ষতির হিসাব

১২:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতির গতিপথে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রনেতাকে অপহরণের সেই নাটকীয় ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক সংকটই নয়, বরং আগামী কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক শক্তি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলা সংকট ও চীনের কূটনৈতিক সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি চীনের অর্থনীতিনির্ভর কূটনীতির সীমাবদ্ধতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভেনেজুয়েলার সংকটে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, মহান শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন যুগেও প্রভাববলয় এখনো বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়ে গেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ বেইজিংয়ের সামনে থাকা বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিপরীতে নিজেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য পাল্টা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা চীনের রয়েছে, অঞ্চলটি ও গোটা গ্লোবাল সাউথজুড়ে তার বাস্তব সীমা এই ঘটনাতেই ফুটে উঠেছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান, প্রশ্নের মুখে চীনের নীরবতা

সুইং স্টেট ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই

মধ্যম শক্তিধর দেশ ও তথাকথিত সুইং স্টেটগুলো, যারা কোনো এক পরাশক্তির সঙ্গে পুরোপুরি সারিবদ্ধ নয়, তাদের ঘিরেই বর্তমানে প্রভাব বিস্তারের লড়াই সবচেয়ে তীব্র। এই প্রতিযোগিতায় চীন অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রপ্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে।

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল চীন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলও বিদেশে চীনা বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব বনাম নিরাপত্তা বাস্তবতা

প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীন এই অঞ্চলে তার উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম একটি ঐক্যবদ্ধ গ্লোবাল সাউথ গড়ে তোলা এবং বহুমেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার জন্য লাতিন আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন তার তথাকথিত নিজস্ব উঠানে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ায় একটি বড় ফাঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে চীন শক্তিশালী হলেও সংকটকালে অংশীদার দেশগুলোর জন্য কার্যকর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে বেইজিং এখনো পিছিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন ও চাপের কৌশল

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর হংকংভিত্তিক কংগ্লোমারেট সিকে হাচিসনকে পানামার বন্দরগুলোর অংশীদারত্ব বিক্রিতে চাপ দেওয়া হয়। একই সময়ে বলিভিয়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে করা লিথিয়াম চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে চীনসমর্থিত মহাকাশ ও টেলিযোগাযোগ প্রকল্প স্থগিত রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ নিশ্চিত করেন।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতিতে সুইং স্টেটের  উত্থান

চীনের সীমিত সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ

সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাং ঝোংইং বলেন, আমেরিকার স্পষ্ট লাল রেখা হলো নিজস্ব প্রভাববলয়ের ভেতরে চীনের উপস্থিতি সীমিত রাখা। তাঁর মতে, চীনের ভেতরেই বিদেশি বিনিয়োগ মডেলের টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ইতিহাসবিদ রানা মিটার মনে করেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনা গোয়েন্দা সক্ষমতার ক্ষেত্রেও চীনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে কারাকাসের বিদ্যুৎব্যবস্থায় হামলা চালাতে পেরেছে, যা চীনের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

গ্লোবাল সাউথে ভারসাম্যের রাজনীতি

বিশ্লেষকেরা বলছেন, লাতিন আমেরিকা ও বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য চীনের দিকে ঝুঁকলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে এখনো যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রধান শক্তি হিসেবে দেখে। ফলে নিরাপত্তা অঙ্গীকার ছাড়া চীনের প্রকৃত প্রভাবের পরিধি কতটা, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্লেষক ফ্রান্স-পল ভ্যান ডার পুটেনের মতে, যার প্রভাব মূলত অর্থনৈতিক, সেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুরোপুরি সরাতে পারে না, এমনকি চাইলেও না। তাঁর ভাষায়, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ কোনো একক পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর বদলে দেশগুলোকে বিকল্প পথ খুঁজতে উৎসাহিত করে।

নতুন স্বাভাবিকতা কী

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাই নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার মধ্যে থেকেই এসব দেশ নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চাইছে।

ভবিষ্যতে চীন কীভাবে অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তা বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটিই গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে তার সম্পর্কের দিকনির্দেশ ঠিক করে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।