ইরানে টানা রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর আপাতত বিক্ষোভ স্তিমিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা। রাজধানী তেহরানসহ একাধিক এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বজায় থাকলেও বড় আকারের জমায়েত বা মিছিলের খবর মিলছে না। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান কর্তৃপক্ষ আট শতাধিক নির্ধারিত গণফাঁসি স্থগিত করেছে।
বিক্ষোভের তীব্রতা কমেছে, নজরদারি জোরদার
ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ দ্রুতই ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। গত সপ্তাহের শেষে সহিংসতা চরমে ওঠে। বিরোধী গোষ্ঠী ও এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। তবে গত চার দিন ধরে তেহরান তুলনামূলক শান্ত বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। শহরের আকাশে ড্রোন উড়লেও বড় বিক্ষোভের চিহ্ন নেই। উত্তরাঞ্চলের ক্যাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী শহরগুলোর রাস্তাও শান্ত বলেই বর্ণনা মিলেছে।

গণফাঁসি স্থগিতের দাবি, তেহরানের নীরবতা
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, নির্ধারিত আট শতাধিক ফাঁসি বাতিল করা হয়েছে এবং তিনি এর জন্য ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো পরিকল্পনা বা তা বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। এর আগে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা কমলেও উত্তেজনা কাটেনি
বুধবারের পর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার আশঙ্কা কমেছে। তবু মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সৌদি আরব ও কাতারসহ মিত্ররা কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে চেষ্টা করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রধান যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলি বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইন্টারনেট খুলতেই ভেসে উঠছে সহিংসতার চিত্র
ইন্টারনেট বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ধীরে ধীরে সহিংসতার বিবরণ সামনে আসছে। তেহরানের এক নারী জানিয়েছেন, বাড়ির কাছের এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তার পনেরো বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছে। তার অভিযোগ, বাড়ি ফেরার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি শাখা তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান
ইরানের শেষ শাহর পুত্র ও প্রবাসী বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক মহলকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মাঠে ইরানি জনগণ সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন দরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার নেতৃত্বে সরাসরি সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও শোনা গেছে।

বিক্ষিপ্ত অস্থিরতার খবর
অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক এলাকায় বিক্ষোভ না হলেও নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত কঠোর। কোথাও কোথাও সহিংসতার খবর মিলছে। পশ্চিম তেহরানের কারাজে এক নারী নার্স গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মধ্যাঞ্চলের ইসফাহানে শিক্ষা দপ্তরে অগ্নিসংযোগের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরের বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ চলছে, তবে আগের মতো তীব্র নয়।
মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ছয় শতাধিক। সরকারি সূত্রে এর চেয়ে কম সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতের বিক্ষোভ গুলোর তুলনায় এবারের প্রাণহানি অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















