ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসো ইতিহাসের দুর্বলতম অবস্থানে পৌঁছানোয় দেশটির অর্থনীতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। জানুয়ারির শুরুতে এক ডলারের বিপরীতে পেসোর দর নেমে আসে প্রায় ঊনষাট দশমিক আটত্রিশে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, আরও দুর্বলতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তাদের রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পেসো এতটা দুর্বল হলো কেন এবং এতে কারা লাভবান হচ্ছে।
প্রবাসী আয় বাড়ার সুযোগ, মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে
দশ মিলিয়নের বেশি ফিলিপিনো দেশের বাইরে কাজ করেন এবং নিয়মিত দেশে টাকা পাঠান। পেসো দুর্বল হলে বিদেশ থেকে পাঠানো একই অঙ্কের অর্থ দেশীয় মুদ্রায় বেশি মূল্য পায়। এতে প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং ভোক্তানির্ভর অর্থনীতিতে ব্যয়ও বাড়তে পারে। তবে এর উল্টো দিকও রয়েছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতা
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পেসোর ওপর চাপ বাড়তে শুরু করে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে বন্যা অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থ লুটের ইঙ্গিত দেওয়ার পর সংসদীয় শুনানিতে উঠে আসে সরকারি কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও রাজনীতিকদের যোগসাজশের অভিযোগ। এতে বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার থেকে দ্রুত অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। কয়েক মাসে বিপুল অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়ায় পেসোর ওপর চাপ আরও তীব্র হয়।
সুদের হার কমানো ও আন্তর্জাতিক চাপ
দুর্নীতিকাণ্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগেই নীতিগত সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। চলতি বছর আরও এক দফা সুদ কমানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপে ফিলিপাইনের রপ্তানি খাতে গতি কমেছে, যা মুদ্রাবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিনিয়োগকারীর জন্য সুযোগ না ঝুঁকি
পেসো দুর্বল হওয়ায় ফিলিপাইনের শেয়ার ও সম্পদ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক সস্তা দেখাচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে মুদ্রার দরপতন বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতার সংকেত হিসেবেও ধরা হয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে লাভের সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে ঝুঁকিই বড় হয়ে উঠতে পারে।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান
এখনো পর্যন্ত সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেসোর পতন নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ দেখাচ্ছে না। অন্য অনেক এশীয় দেশের মতো সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও নেই। তবে বাজারের চোখ রয়েছে, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















