গাজা উপত্যকার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর পর গাজা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটি প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেছে। শুক্রবার কায়রোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে মিশরের রাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম।
নতুন কমিটির গঠন ও উদ্দেশ্য
এই কমিটি গঠিত হয়েছে পনেরো জন টেকনোক্র্যাটকে নিয়ে। তাদের মূল দায়িত্ব যুদ্ধশেষে গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা করা। হামাস ও ইসরায়েলের দীর্ঘ সংঘাতের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই কমিটির লক্ষ্য। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই নতুন ফিলিস্তিন টেকনোক্র্যাট সরকারকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, গাজার রূপান্তর কালীন সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে এই কমিটি কাজ করবে এবং একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ড এর তত্ত্বাবধান করবে। ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
যুদ্ধবিরতি হলেও সহিংসতা থামেনি
অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এই সময়ের মধ্যে গাজায় চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। পাশাপাশি তিন জন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নতুন করে হামলা ও পাল্টা অভিযোগ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাবে তারা গাজায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ গাজায় গোলাগুলির ঘটনার পর এই হামলার ঘোষণা আসে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং হামাস জানায়, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ এলাকায় এক হামলায় হামাসের এক কমান্ডারের মৃত্যুর কথাও তার পরিবার নিশ্চিত করেছে।
হামাসের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম বলেন, ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালিয়ে আবারও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। তার মতে, এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















