বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক পরিবেশ যখন ক্রমবর্ধমান সংকটে, তখন সমুদ্র রক্ষার বাস্তব সমাধান খুঁজতে এক মঞ্চে আসছেন বিশ্ব বিখ্যাত আলোকচিত্রী, বিজ্ঞানী ও সমুদ্র অনুসন্ধানকারীরা। শারজাহে অনুষ্ঠিতব্য এক্সপোজার আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব দুই হাজার ছাব্বিশের সংরক্ষণ সম্মেলন আগামী দুই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সংকটাপন্ন জলরাশি, যা সমুদ্রের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ কে সামনে আনে।
সমুদ্র কেন পৃথিবীর রক্ষাকবচ
সম্মেলনের মূল ভাবনায় উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন দূষণের বিরুদ্ধে সমুদ্রের ভূমিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রই পৃথিবীর প্রথম প্রতিরক্ষা রেখা। কিন্তু অতিরিক্ত ভোগবাদ, নগরায়ণ, শিল্প দূষণ ও জলবায়ু সংকট এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সম্মেলনে এসব চাপ মোকাবিলায় নীতিগত ও ব্যবহারিক পথ নিয়ে আলোচনা হবে।
![]()
এক্সপোজারের বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা
শারজাহ সরকারের গণমাধ্যম ব্যুরোর মহাপরিচালক তারিক সাঈদ আল্লাই জানান, সংরক্ষণ সম্মেলন এক্সপোজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি বৈশ্বিক সমস্যার প্রতি উৎসবের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে এবং সমাধান তৈরিতে, নীতিনির্ধারণে ও বিশ্বব্যাপী যৌথ দায়িত্ব বোধ জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
মূল বক্তৃতায় সমুদ্রের জীবন্ত গল্প
সম্মেলনের সূচনা হবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে। প্রথম অধিবেশন জীবন্ত সমুদ্র, আমাদের সমুদ্র রক্ষার লড়াই শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন শারজাহর সরকারি সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ ফাহিম আল কাসিমি এবং খ্যাতনামা আলোক সাংবাদিক ব্রায়ান স্কেরি। এখানে সমুদ্রকে একটি ভঙ্গুর জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে দেখা হবে এবং প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে জনসচেতনতা ও বৈশ্বিক উদ্যোগ কীভাবে জোরদার করা যায়, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
![]()
সংকটাপন্ন জলরাশির চাপ ও বাস্তবতা
দ্বিতীয় অধিবেশন সংকটাপন্ন জলরাশি শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন সামুদ্রিক বিজ্ঞান আলোকচিত্রী জেনিফার অ্যাডলার, বন্যপ্রাণী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার শীর্ষ বিজয়ী শেন গ্রস, ফরাসি আলোকচিত্রী গ্রেগ লেকুর এবং অস্কারজয়ী নির্মাতা পিপা এরলিখ। আলোচনায় সমুদ্রের উপর ভোগবাদী চাপ, নগর সম্প্রসারণ এবং জলজ পরিবেশ রক্ষায় করণীয় তুলে ধরা হবে। আলোচনার সঞ্চালনায় থাকবেন প্রাকৃতিক ইতিহাস বিষয়ক অভিজ্ঞ সম্পাদক ক্যাথি মোরান।
সমুদ্র সংরক্ষণ জোনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
সংরক্ষণ সম্মেলনকে ঘিরে সমুদ্র ও সামুদ্রিক সংরক্ষণ জোনে পাঁচটি একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাল বিলুপ্তির পথে শীর্ষক প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী আলপ কান শিল্প দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রবালের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরবেন। প্রাণবন্ত সমুদ্র প্রদর্শনীতে গ্রেগ লেকুর ভূমধ্যসাগরের জীববৈচিত্র্য ও ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র নথিবদ্ধ করেছেন। লুকানো সমুদ্র ধন শীর্ষক প্রদর্শনীতে শেন গ্রস কম পরিচিত সামুদ্রিক আচরণের গল্প তুলে ধরেছেন। সমুদ্রের বন প্রদর্শনীতে জেনিফার অ্যাডলার চার মহাদেশে তিন বছরের গবেষণাভিত্তিক আলোকচিত্রের মাধ্যমে সামুদ্রিক অরণ্যের গুরুত্ব দেখিয়েছেন। ওশান সোল প্রদর্শনীতে ব্রায়ান স্কেরি সমুদ্রকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে তুলে ধরে মানবদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা ও কর্মশালা
সম্মেলনের দিন এক্স স্টেজে ছয়টি অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাগুলোতে সামুদ্রিক জীবনের অদেখা গল্প, ভূমধ্যসাগরীয় সংরক্ষণ এলাকা, বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প বলা, কেল্প অরণ্যের গুরুত্ব, অতিরিক্ত মাছ ধরার প্রভাব এবং প্রবাল প্রাচীরের উত্থান-পতনের বিষয় উঠে আসবে। এছাড়া তিন ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে পানির নিচে আলোকচিত্র বিষয়ক হাতে-কলমে কর্মশালা, যেখানে নতুন ও মধ্যম পর্যায়ের আলোকচিত্রীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















