০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
টেলিনর গ্রুপের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বৈচিত্র্যের মাঝে একতা: বাংলার নববর্ষ উদযাপনে অনন্য বাংলাদেশ পহেলা বৈশাখে ঢাবি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, শাহবাগ দুপুর ১২টা পর্যন্ত, সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা আজই ইরানের সব বন্দর অবরোধ করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিষিদ্ধ পেপটাইডের মোহ: স্বাস্থ্য নাকি ঝুঁকির খেলা? শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নভেম্বর পর্যন্ত তেল-গ্যাসের উচ্চ দাম থাকবে, হরমুজ অবরোধে বিশ্ববাজারে ৫০% বৃদ্ধি ঈদুল আজহার আগে জ্বালানি সংকটে নৌপথ অচল, পালা করে চলছে লঞ্চ-জাহাজ

নীল আকাশের মূল্য ঠান্ডা ঘর বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেইয়ের কৃষকরা বিপাকে

বেইজিংয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকা হেবেই প্রদেশের মানুষের দুর্ভোগ নতুন নয়। রাজধানীর সুরক্ষায় বারবার কঠিন সিদ্ধান্তের বোঝা বইতে হয়েছে তাদের। মহামারির সময় চলাচলে কড়াকড়ি, পরে বন্যার পানি ঢুকিয়ে দেওয়া—সবই সহ্য করেছে হেবেই। এবার শহরের নীল আকাশ রক্ষার উদ্যোগে শীতের রাতে ঘর গরম রাখাই কঠিন হয়ে উঠেছে বহু গ্রামবাসীর জন্য।

বায়ুদূষণ কমল, কিন্তু খরচ বেড়েছে
উত্তর চীনে দীর্ঘদিন ধরে সস্তা জ্বালানি হিসেবে কয়লা পুড়িয়ে শীত নিবারণ করা হতো। কিন্তু এতে শীত এলেই বেইজিং ঢেকে যেত ঘন ধোঁয়াশায়। পরিস্থিতি বদলাতে কয়লা নিষিদ্ধ করে গ্যাসচালিত হিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কারখানা সরানো সহ নানা পদক্ষেপে ফলও মিলেছে। গত বছর রাজধানীতে গুরুতর দূষণের দিন ছিল হাতে গোনা। ক্ষতিকর কণার মাত্রাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

Beijing hit by dirty smog but observers say air is getting better |  Guardian sustainable business | The Guardian

গ্রামের মানুষের জন্য গ্যাসের শীত ব্যয়বহুল
সমস্যা হলো গ্যাসে গরমের খরচ কয়লার তুলনায় অনেক বেশি। শুরুতে ভর্তুকি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে গেছে। ফলে হেবেইয়ের বহু গ্রামবাসীর শীতকালীন গ্যাস বিল দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ইউয়ানেরও বেশি, যা গ্রাম অঞ্চলের গড় বার্ষিক পেনশনের চেয়েও বেশি। তার ওপর রাজধানীর তুলনায় হেবেইয়ে গ্যাসের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেশি। কারণ বেইজিংয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো দামে চুক্তি করতে পারে এবং সেখানকার বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় ভর্তুকির সুবিধা পান।

কয়লায় ফেরার চেষ্টা, নজরদারি বাড়ছে
খরচ সামলাতে না পেরে কেউ কেউ আবার গোপনে কয়লা পোড়াচ্ছেন। খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ ড্রোন উড়িয়ে ধোঁয়ার চিহ্ন খুঁজছে। ধরা পড়লে জরিমানা। যারা নিয়ম মানছেন, তারা অতিরিক্ত কম্বলের নিচে কাঁপছেন। শীতে কাঁপতে থাকা বৃদ্ধদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেই কেন জমে যাবে।

Dirty air will be the norm in Beijing for five days[1]- Chinadaily.com.cn

সমালোচনার মুখে নীরবতা
অনলাইনে মন্তব্যে উঠছে ন্যায্যতার প্রশ্ন। নীল আকাশের সুফল যাঁরা পান, খরচও তাঁদেরই ভাগ করা উচিত—এমন কথা শোনা যাচ্ছে। আশ্চর্যজনকভাবে কিছু সরকারি গণমাধ্যমও সমালোচনায় সরব হয়েছে। কৃষকদের গরমের সমস্যার সমাধান আর দেরি করা যাবে না—এমন মন্তব্য প্রকাশের পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকেও সহানুভূতিশীল লেখা মুছে গেছে। আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কর্তৃপক্ষ যে অস্বস্তিতে, তা স্পষ্ট।

এক গ্রামের বাস্তব চিত্র
হেবেইয়ের ওয়াংদু জেলার এক গ্রামে গ্যাসের পাইপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছেছে। তবু খরচের ভয়ে অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। বরফে ঢাকা উঠোনে দাঁড়িয়ে এক নারী বলেন, সাধারণ মানুষের আয় সীমিত, তাই পারলে ঠান্ডাই সহ্য করতে হয়। ছোট শিশু আছে এমন পরিবারকে অবশ্যই বিল দিতে হয়। আরেক বাসিন্দা দূষণ কমানোর উদ্যোগ সমর্থন করলেও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো ভর্তুকি পাননি। তাঁর কথায়, সরকারি নীতির সঙ্গে উষ্ণ থাকার চাহিদা সাংঘর্ষিক হওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে তা সহ্য করা কঠিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিনর গ্রুপের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

নীল আকাশের মূল্য ঠান্ডা ঘর বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেইয়ের কৃষকরা বিপাকে

০৫:০০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বেইজিংয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকা হেবেই প্রদেশের মানুষের দুর্ভোগ নতুন নয়। রাজধানীর সুরক্ষায় বারবার কঠিন সিদ্ধান্তের বোঝা বইতে হয়েছে তাদের। মহামারির সময় চলাচলে কড়াকড়ি, পরে বন্যার পানি ঢুকিয়ে দেওয়া—সবই সহ্য করেছে হেবেই। এবার শহরের নীল আকাশ রক্ষার উদ্যোগে শীতের রাতে ঘর গরম রাখাই কঠিন হয়ে উঠেছে বহু গ্রামবাসীর জন্য।

বায়ুদূষণ কমল, কিন্তু খরচ বেড়েছে
উত্তর চীনে দীর্ঘদিন ধরে সস্তা জ্বালানি হিসেবে কয়লা পুড়িয়ে শীত নিবারণ করা হতো। কিন্তু এতে শীত এলেই বেইজিং ঢেকে যেত ঘন ধোঁয়াশায়। পরিস্থিতি বদলাতে কয়লা নিষিদ্ধ করে গ্যাসচালিত হিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কারখানা সরানো সহ নানা পদক্ষেপে ফলও মিলেছে। গত বছর রাজধানীতে গুরুতর দূষণের দিন ছিল হাতে গোনা। ক্ষতিকর কণার মাত্রাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

Beijing hit by dirty smog but observers say air is getting better |  Guardian sustainable business | The Guardian

গ্রামের মানুষের জন্য গ্যাসের শীত ব্যয়বহুল
সমস্যা হলো গ্যাসে গরমের খরচ কয়লার তুলনায় অনেক বেশি। শুরুতে ভর্তুকি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে গেছে। ফলে হেবেইয়ের বহু গ্রামবাসীর শীতকালীন গ্যাস বিল দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ইউয়ানেরও বেশি, যা গ্রাম অঞ্চলের গড় বার্ষিক পেনশনের চেয়েও বেশি। তার ওপর রাজধানীর তুলনায় হেবেইয়ে গ্যাসের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেশি। কারণ বেইজিংয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো দামে চুক্তি করতে পারে এবং সেখানকার বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় ভর্তুকির সুবিধা পান।

কয়লায় ফেরার চেষ্টা, নজরদারি বাড়ছে
খরচ সামলাতে না পেরে কেউ কেউ আবার গোপনে কয়লা পোড়াচ্ছেন। খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ ড্রোন উড়িয়ে ধোঁয়ার চিহ্ন খুঁজছে। ধরা পড়লে জরিমানা। যারা নিয়ম মানছেন, তারা অতিরিক্ত কম্বলের নিচে কাঁপছেন। শীতে কাঁপতে থাকা বৃদ্ধদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেই কেন জমে যাবে।

Dirty air will be the norm in Beijing for five days[1]- Chinadaily.com.cn

সমালোচনার মুখে নীরবতা
অনলাইনে মন্তব্যে উঠছে ন্যায্যতার প্রশ্ন। নীল আকাশের সুফল যাঁরা পান, খরচও তাঁদেরই ভাগ করা উচিত—এমন কথা শোনা যাচ্ছে। আশ্চর্যজনকভাবে কিছু সরকারি গণমাধ্যমও সমালোচনায় সরব হয়েছে। কৃষকদের গরমের সমস্যার সমাধান আর দেরি করা যাবে না—এমন মন্তব্য প্রকাশের পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকেও সহানুভূতিশীল লেখা মুছে গেছে। আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কর্তৃপক্ষ যে অস্বস্তিতে, তা স্পষ্ট।

এক গ্রামের বাস্তব চিত্র
হেবেইয়ের ওয়াংদু জেলার এক গ্রামে গ্যাসের পাইপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছেছে। তবু খরচের ভয়ে অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। বরফে ঢাকা উঠোনে দাঁড়িয়ে এক নারী বলেন, সাধারণ মানুষের আয় সীমিত, তাই পারলে ঠান্ডাই সহ্য করতে হয়। ছোট শিশু আছে এমন পরিবারকে অবশ্যই বিল দিতে হয়। আরেক বাসিন্দা দূষণ কমানোর উদ্যোগ সমর্থন করলেও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো ভর্তুকি পাননি। তাঁর কথায়, সরকারি নীতির সঙ্গে উষ্ণ থাকার চাহিদা সাংঘর্ষিক হওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে তা সহ্য করা কঠিন।