সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ আমিরাতে শুরু হয়েছে আফ্রিকান সাহিত্য ও সংস্কৃতির বর্ণিল আয়োজন শারজাহ আফ্রিকান সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় আসর। শারজাহ বই কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয় নগরীতে চৌদ্দ থেকে আঠারো জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই উৎসব আফ্রিকার সাহিত্য, শিল্প, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল অভিব্যক্তিকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।
সংলাপ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মঞ্চ
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমন্বিত সাংস্কৃতিক আয়োজন। সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ ও বই স্বাক্ষরের পাশাপাশি আফ্রিকান ফ্যাশন প্রদর্শনী, সরাসরি রান্নার আয়োজন, ঐতিহ্যবাহী বাজার ও নানা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রাঙ্গণ। শারজাহ বই কর্তৃপক্ষ, কালিমাত গ্রুপ এবং আমিরাত লেখক সংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত আলোচনা পর্বগুলোতে একত্র হয়েছেন আমিরাত ও আফ্রিকার লেখক ও সাহিত্যিকেরা। এই মিলনমেলা দুই অঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সাহিত্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ তৈরি করছে।

উৎসবের গুরুত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি
শারজাহ বই কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী আহমেদ বিন রাক্কাদ আল আমেরি বলেন, আফ্রিকান সাহিত্য উৎসব শারজাহর সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোর সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাঁর মতে, বিশ্বের নানা সংস্কৃতির সঙ্গে অর্থবহ সংযোগ গড়ে তোলার শারজাহর দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন এই আয়োজন। উৎসবের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল আফ্রিকার সৃজনশীলতা, শিল্প ও ঐতিহ্যের জগতকে উন্মুক্ত জানালায় তুলে ধরা, যাতে আমিরাত ও আফ্রিকার লেখক ও সৃজনশীল মানুষের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, শারজাহ বই কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শেখা বদুর বিনতে সুলতান আল কাসিমির দিকনির্দেশনায় গভীর সাংস্কৃতিক শিকড়সম্পন্ন দেশগুলোর সৃজনশীল অবদান তুলে ধরা হচ্ছে।
পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাহিত্যকে আলোকপাত
এবারের আসরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাহিত্যকে। জানজিবার, ইথিওপিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাহিত্য অভিজ্ঞতা আলাদা করে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব অঞ্চল শক্তিশালী সাহিত্যিক সমাজ, প্রভাবশালী লেখক এবং বিকাশমান প্রকাশনা জগতের জন্য পরিচিত।
লেখক, কবিতা ও ভাবনার আদানপ্রদান
উৎসবে অংশ নিয়েছেন আমিরাতের খ্যাতিমান লেখক ফাহাদ আল মেমারি, আলি আল শালি, শেখা আল মুতাইরি, আফরা আতীক, নাদিয়া আল নাজ্জার, সালহা আবিদ ও আমিরা বুকদ্রাসহ বহু আফ্রিকান লেখক ও সাহিত্যিক। প্রতিদিনের আলোচনা পর্বে আফ্রিকার সাহিত্য, পরিচয়, স্মৃতি, আখ্যান, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর ভাবনার আদানপ্রদান হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিনের কবিতা পাঠে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার কবিদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন আমিরাতের কবিরা।
শিক্ষা, রান্না ও শিশুদের বিশেষ আয়োজন
শিক্ষার্থীদের কাছে উৎসবকে পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বক্তৃতা, কর্মশালা ও আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। আফ্রিকান রান্নার সরাসরি প্রদর্শনীতে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং তাদের সাংস্কৃতিক গল্প তুলে ধরা হচ্ছে। শিশুদের জন্য প্রতিদিনের কর্মশালায় গল্প, শিল্পকলা, ভাষা ও পরিবেশনার মাধ্যমে আফ্রিকান সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















