বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলেছে। বৈঠকে শি জিনপিং ‘নতুন ধরনের কৌশলগত অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার সব বাধা দূর করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা চীন কানাডা সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নতুন সম্পর্কের রূপরেখা
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং স্পষ্ট করেন যে দুই দেশ বাণিজ্য বৈচিত্র্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিখাতে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, কৃষি, জ্বালানি ও আর্থিক খাতে দ্রুত ও টেকসই অগ্রগতির বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর কৌশল
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কানাডা বিকল্প বাজার ও অংশীদার খুঁজছে। অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী চীনও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। বৈঠকে শি জিনপিং জাতিসংঘ, জি বিশ এবং এপেকের মতো বহুপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকির হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা চীন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যেমন নতুন সুযোগ আনতে পারে, তেমনি কৌশলগত নির্ভরতা ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।

সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে
এর আগে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কার্নি জানান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, কৃষি, আর্থিক খাতের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি, মহাকাশ শিল্প ও উন্নত উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বেইজিং। সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকে জ্বালানি, অপরাধ প্রতিরোধ, আধুনিক কাঠ নির্মাণ, সংস্কৃতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভিদ ও প্রাণী স্বাস্থ্যের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর্থিক খাতে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় চুক্তি সম্প্রসারণেও একমত হয়েছে নেতৃত্ব।
অতীতের টানাপোড়েন ও বর্তমান বাস্তবতা
২০১৮ সালে এক চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর গ্রেপ্তার কে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধাক্কা লাগে। সেই ঘটনার রেশ কাটিয়ে ওঠার পর বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অটোয়ার পক্ষে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আর অবহেলা করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজার ও বাণিজ্য বৈচিত্র্য করা এখন কানাডার জন্য প্রায় অস্তিত্বগত প্রয়োজন।
চার দিনের সফরের তাৎপর্য
প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্ক কার্নি প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলে আসছেন। বেইজিং সফর সেই কৌশলেরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















