মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। মিনিয়াপোলিসে মোতায়েন অভিবাসন সংস্থার এজেন্টদের আচরণে কড়া সীমা টেনে দিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও পর্যবেক্ষণের অধিকার সুরক্ষিত করার নির্দেশ এসেছে আদালত থেকে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে প্রতিশোধে নিষেধাজ্ঞা
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জেলা বিচারক কেট মেনেন্ডেজ এক অন্তর্বর্তী নির্দেশনায় বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও বাধাহীন প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তি কিংবা নিয়ম মেনে অভিযান পর্যবেক্ষণ কারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না ফেডারেল এজেন্টরা। কোনো অপরাধের যুক্তিসংগত সন্দেহ বা আইনশৃঙ্খলা কাজে বাধা দেওয়ার প্রমাণ না থাকলে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র ব্যবহারে কড়াকড়ি
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে অভিযান পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করা ব্যক্তিদের ওপর মরিচ স্প্রে, কাঁদানে গ্যাস বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
বৃহৎ অভিযানের পরেই বাড়ে উত্তেজনা
এই রায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ মিনিয়াপোলিস এলাকায় প্রায় দুই হাজার অভিবাসন এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পরবর্তীতে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছায়, যা মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল মহানগর এলাকায় স্থানীয় পুলিশের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়।
গুলিতে মৃত্যুর পর ক্ষোভ চরমে
অভিযান ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যখন জানুয়ারিতে এক অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে রেনে গুড নামে তিন সন্তানের এক মায়ের মৃত্যু হয়। তিনি তখন নিজের গাড়িতে ছিলেন এবং স্থানীয় কর্মীদের সংগঠিত পাড়া ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর থেকেই মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে।
আইনি লড়াইয়ে অধিকার কর্মীদের স্বস্তি
আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে স্থানীয় কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই রায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা দিল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















