কেরালার লোক ভবনের সামনে টানা দিনরাত অবস্থান কর্মসূচি বুধবার সকালে সমাপ্ত করেছে কংগ্রেস। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গেই দলটির নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আরও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা।
কেন আন্দোলনে কংগ্রেস
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের আগের কাঠামো ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সংশোধনের ফলে আইনটি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলোর। তাদের দাবি, এই পরিবর্তন বিশ্বের অন্যতম বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।

কর্মসংস্থান আইনের পটভূমি
দুই হাজার পাঁচ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চালু হওয়া এই আইন গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি পরিবারকে বছরে অন্তত একশ দিন মজুরি ভিত্তিক কাজের নিশ্চয়তা দেয়। ভারতের প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং বিপুল জনগোষ্ঠী স্বল্প লাভজনক কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই কর্মসূচি গ্রামীণ জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করেছে।
কংগ্রেসের কণ্ঠে প্রতিবাদ
মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনের সূচনা করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বলেন, নতুন বিল প্রত্যাহার করে পুরোনো কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন পুনর্বহাল করাই তাদের একমাত্র দাবি। তিনি জানান, চল্লিশ দিনের দেশজুড়ে প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং সরকার পিছু না হটা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিরোধী দল, সমমনা সংগঠন ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোকেও এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রামীণ জীবনে আইনের গুরুত্ব
এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বারো কোটির বেশি মানুষ। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি নারী এবং উল্লেখযোগ্য অংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। দারিদ্র্য হ্রাসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবস্থাই অর্থনৈতিক মন্দার সময় গ্রামীণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছিল।
নতুন আইনে কী পরিবর্তন
বর্তমান সরকার কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে নতুন কাঠামো প্রবর্তন করেছে। যদিও কাজের নিশ্চয়তা একশ দিন থেকে বাড়িয়ে একশ পঁচিশ দিন করার কথা বলা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না পেলে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে, তবু মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া ও অন্যান্য সংশোধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমর্থকরা।

সামনে কী
কেরালায় অবস্থান কর্মসূচি শেষ হলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















