মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সময়মতো না পাওয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়েছে জাপান। সরকারি নিরীক্ষায় উঠে এসেছে, চুক্তি স্বাক্ষরের অন্তত পাঁচ বছর পরও একশ আঠারোটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখনো জাপানে পৌঁছায়নি। এসব সরঞ্জামের মোট মূল্য এক ট্রিলিয়ন চৌদ্দশ বিলিয়ন ইয়েনের বেশি, যা জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
দীর্ঘ বিলম্বে পুরোনো সরঞ্জামে নির্ভরতা
জাপানের নিরীক্ষা বোর্ড জানায়, সরঞ্জাম না আসায় অনেক ক্ষেত্রে আত্মরক্ষা বাহিনীকে পুরোনো প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আকাশ আত্মরক্ষা বাহিনীর আগাম সতর্কীকরণ বিমান ই–দুই ডি ব্যবস্থাপনার জন্য কেনা রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম সময়মতো সরবরাহ না হওয়ায় উত্তর জাপানের আওমোরি অঞ্চলে মোতায়েন ইউনিটকে পুরোনো ই–দুই সি বিমানের উপযোগী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিরীক্ষা বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
সংসদের অনুরোধে দুই হাজার আঠারো থেকে দুই হাজার তেইশ অর্থবছরের চুক্তি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিরীক্ষা বোর্ড এই তথ্য প্রকাশ করে। দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়া পাঁচ শতাধিক চুক্তির মধ্যে একশ আঠারোটা সরঞ্জাম এখনো সরবরাহ শেষ হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সব বিলম্ব এক রকম নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তীতে অর্ডার যুক্ত হওয়ায় সময় বেড়েছে। তবু প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মার্কিন বিক্রয় ব্যবস্থার জটিলতা
জাপান সাধারণত মার্কিন সরকারের বৈদেশিক সামরিক বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনে। এই ব্যবস্থায় মূল্য ও সরবরাহ সময় আগাম অনুমান ভিত্তিক নির্ধারিত হয় এবং অর্থ আগেই পরিশোধ করতে হয়। পরে সরঞ্জাম পৌঁছালে চূড়ান্ত হিসাব করা হয়। নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, অনেক বিলম্বের পেছনে রয়েছে মার্কিন সরকারের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে সময় নেওয়া এবং উৎপাদন পরিকল্পনার পরিবর্তন।

যুদ্ধ ও বৈদেশিক অগ্রাধিকার প্রভাব
কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক চাহিদা অগ্রাধিকার পাওয়ায় জাপানে সরঞ্জাম পাঠানো পিছিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিরোধী দলগুলো। সরকার যদিও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি, তবু নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আশঙ্কার বিষয়টি উঠে এসেছে।
মুদ্রা বিনিময় হার ও বাড়তি ব্যয়
দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিভিত্তিক চুক্তির কারণে ইয়েনের মান কমে গেলে জাপানের ব্যয় বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের অবমূল্যায়নে দুই হাজার তেইশ থেকে দুই হাজার পঁচিশ অর্থবছরের পরিশোধযোগ্য অর্থ চুক্তির সময়ের তুলনায় প্রায় তিনশ বিলিয়ন ইয়েন বেশি হবে বলে নিরীক্ষা বোর্ড জানিয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

বাড়ছে প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাড়ছে ঝুঁকি
আধুনিক অনেক অস্ত্র দেশীয়ভাবে তৈরি করা কঠিন হওয়ায় জাপান এই মার্কিন বিক্রয় ব্যবস্থাকেই প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রধান উপায় হিসেবে দেখে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার খরচও কয়েক গুণ বেড়েছে। দুই হাজার তেইশ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় হয়েছে এক ট্রিলিয়ন তিনশ আশি বিলিয়ন ইয়েন, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। দীর্ঘ বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের এই বাস্তবতা জাপানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















