০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
আমেরিকা ২৫০ বছরে: বর্তমান সংকটে ইতিহাসের শিক্ষা রাশিয়ার মধ্যস্থতার প্রস্তাব, ইরান সংকটে শান্তির বার্তা পুতিনের দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ কল্পনায় সিক্কা আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন উৎসবের চতুর্দশ আসর শুরু ভবিষ্যৎ জিততে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে নতুন করে লিখতে হবে তার শিল্পনীতির নিয়মকানুন শারজাহর মরুভূমিতে সবুজ বিপ্লব, ম্লেইহা গম খামার ঘুরে দেখলেন জানজিবার এর ফার্স্ট লেডি নীল আকাশের মূল্য ঠান্ডা ঘর বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেইয়ের কৃষকরা বিপাকে সংকল্পের দিনে ঐক্যের শপথ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে দমন-পীড়নের পর স্তব্ধ রাজপথ, তবু আতঙ্কে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা দুই হাজার ছাব্বিশে সমুদ্র রক্ষার ডাক গাজা শাসনে নতুন অধ্যায়: যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক কমিটির প্রথম বৈঠক

আলেপ্পোর উত্তপ্ত অঞ্চলে মানবিক করিডোর, বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিতর্কিত এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘোষণাকে ঘিরে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত মিলছে।

মানবিক করিডোর ও সম্ভাব্য অভিযান

সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মানবিক করিডোর খোলা থাকবে। এই পথ ব্যবহার করে আলেপ্পো শহরের পূর্বে দেইর হাফের ও মাসকানা শহর এবং আশপাশের এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষ সরে যেতে পারবেন। আলেপ্পো শহর থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই অঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সেনা সমাবেশ দেখা গেছে, যা আসন্ন অভিযানের প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

Kurdish fighters sit in a bus as they leave the Kurdish-majority Sheikh Maqsud neighbourhood accompanied by security forces in Aleppo, Syria on January 10. — AFP

ইউফ্রেটিসের ওপারে সরে যাওয়ার আহ্বান

সেনাবাহিনী কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব পাড়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, ওই এলাকায় কুর্দি বাহিনী নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এসডিএফ। উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এসডিএফের দাবি, ওই এলাকায় তুরস্কের ড্রোন হামলাও হয়েছে।

ড্রোন হামলা ও পারস্পরিক অভিযোগ

সিরীয় সরকার এসডিএফের বিরুদ্ধে আলেপ্পো শহরে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে একটি হামলায় আলেপ্পো গভর্নরেট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সেখানে দুইজন মন্ত্রী ও এক স্থানীয় কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এই হামলাগুলো উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Members of Syrian government security forces stand guard along a street in the Sheikh Maqsud neighbourhood of Aleppo, Syria on January 10. — AFP

সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মানবিক বিপর্যয়

গত সপ্তাহে আলেপ্পো শহরে কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কুর্দি যোদ্ধারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এবং সরকার তিনটি বিতর্কিত মহল্লার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সংঘর্ষে অন্তত তেইশ জন নিহত হন, আহত হন আরও বহু মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন কয়েক দশক হাজার বাসিন্দা।

স্থবির আলোচনা ও বাড়তে থাকা সংকট

এই সহিংসতা শুরু হয় এমন এক সময়ে, যখন দামেস্ক সরকার ও এসডিএফের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল কুর্দি বাহিনীকে জাতীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার সীমান্ত পারাপার ও তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া। আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নিচ্ছে।

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এক বিবৃতিতে এসডিএফ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বেসামরিক মানুষ, অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের দাবি, এই উত্তেজনা ও এর মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির সম্পূর্ণ দায় দামেস্ক সরকারের। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানো ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Residents react as a bus carrying Kurdish fighters prepares to leave the Kurdish-majority Sheikh Maqsud neighbourhood accompanied by security forces in Aleppo, Syria on January 10. — AFP

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা ২৫০ বছরে: বর্তমান সংকটে ইতিহাসের শিক্ষা

আলেপ্পোর উত্তপ্ত অঞ্চলে মানবিক করিডোর, বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

০৩:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিতর্কিত এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘোষণাকে ঘিরে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত মিলছে।

মানবিক করিডোর ও সম্ভাব্য অভিযান

সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মানবিক করিডোর খোলা থাকবে। এই পথ ব্যবহার করে আলেপ্পো শহরের পূর্বে দেইর হাফের ও মাসকানা শহর এবং আশপাশের এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষ সরে যেতে পারবেন। আলেপ্পো শহর থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই অঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সেনা সমাবেশ দেখা গেছে, যা আসন্ন অভিযানের প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

Kurdish fighters sit in a bus as they leave the Kurdish-majority Sheikh Maqsud neighbourhood accompanied by security forces in Aleppo, Syria on January 10. — AFP

ইউফ্রেটিসের ওপারে সরে যাওয়ার আহ্বান

সেনাবাহিনী কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব পাড়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, ওই এলাকায় কুর্দি বাহিনী নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এসডিএফ। উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এসডিএফের দাবি, ওই এলাকায় তুরস্কের ড্রোন হামলাও হয়েছে।

ড্রোন হামলা ও পারস্পরিক অভিযোগ

সিরীয় সরকার এসডিএফের বিরুদ্ধে আলেপ্পো শহরে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে একটি হামলায় আলেপ্পো গভর্নরেট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সেখানে দুইজন মন্ত্রী ও এক স্থানীয় কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এই হামলাগুলো উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Members of Syrian government security forces stand guard along a street in the Sheikh Maqsud neighbourhood of Aleppo, Syria on January 10. — AFP

সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মানবিক বিপর্যয়

গত সপ্তাহে আলেপ্পো শহরে কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কুর্দি যোদ্ধারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এবং সরকার তিনটি বিতর্কিত মহল্লার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সংঘর্ষে অন্তত তেইশ জন নিহত হন, আহত হন আরও বহু মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন কয়েক দশক হাজার বাসিন্দা।

স্থবির আলোচনা ও বাড়তে থাকা সংকট

এই সহিংসতা শুরু হয় এমন এক সময়ে, যখন দামেস্ক সরকার ও এসডিএফের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল কুর্দি বাহিনীকে জাতীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার সীমান্ত পারাপার ও তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া। আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নিচ্ছে।

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এক বিবৃতিতে এসডিএফ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বেসামরিক মানুষ, অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের দাবি, এই উত্তেজনা ও এর মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির সম্পূর্ণ দায় দামেস্ক সরকারের। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানো ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Residents react as a bus carrying Kurdish fighters prepares to leave the Kurdish-majority Sheikh Maqsud neighbourhood accompanied by security forces in Aleppo, Syria on January 10. — AFP