মিনেসোটার এক আবাসিক সড়কে গুলিতে নিহত রেনে গুডের ঘটনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা জনাথন রসের গুলিতে রেনে গুডের মৃত্যুর পর ফেডারেল প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে, নাকি রাজ্য আইনে তার বিচার সম্ভব।
ঘটনার পটভূমি
চলতি মাসের সাত তারিখ মিনিয়াপোলিসের একটি আবাসিক এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় রেনে গুড গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। গুলি চালান আইসিই কর্মকর্তা জনাথন রস। ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান দাবি করেন, রেনে গুড নাকি তার গাড়িটিকে প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালানো হয়েছিল এবং নিহত নারীর আচরণই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

তদন্ত ঘিরে বিতর্ক
এই ঘটনার পর ন্যায়বিচার বিভাগ যে পদক্ষেপ নেয়, তা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিবর্তে নিহত নারীর স্বামীকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ছয়জন কৌঁসুলি পদত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সম্পূর্ণ দায়মুক্তির দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স দাবি করেন, জনাথন রসের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়, কারণ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সম্পূর্ণ আইনি দায়মুক্তি ভোগ করেন। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আইসিই সদস্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তারা ফেডারেল আইনের সুরক্ষায় থাকেন এবং তাদের কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ।
রাজ্য মামলা কি সম্ভব
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যখন তদন্তে অনাগ্রহী, তখন নজর পড়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি নীতির আওতায় ফেডারেল কর্মকর্তারা সাধারণত রাজ্য মামলার হাত থেকে সুরক্ষা পান। তবে এই সুরক্ষা সীমাহীন নয়। যদি রাজ্য সরকার মামলা করে, তাহলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামলাটি ফেডারেল আদালতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
আইনি নজির ও সীমাবদ্ধতা
উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে ষাটের দশক পর্যন্ত একাধিক মামলায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির নজির রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুরক্ষা তখনই প্রযোজ্য, যখন কাজটি ফেডারেল আইনে অনুমোদিত এবং দায়িত্ব পালনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় হয়। প্রশ্ন হলো, রেনে গুডের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী গুলি চালানো কি সত্যিই প্রয়োজনীয় ছিল।

যুক্তিসঙ্গত কর্মকর্তার মানদণ্ড
আইনে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রচলিত। এক পক্ষের মতে, কর্মকর্তার নিজের বিশ্বাসই মুখ্য। যদি তিনি সত্যিই জীবননাশের আশঙ্কা অনুভব করেন, তাহলে তার পদক্ষেপ বৈধ হতে পারে। অন্যদিকে অধিকাংশ আদালতের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যায় বলা হয়, একজন যুক্তিসঙ্গত কর্মকর্তা একই পরিস্থিতিতে কী করতেন, সেটিই মূল মানদণ্ড। এই ব্যাখ্যাই জনাথন রসের জন্য বেশি কঠিন হতে পারে।
ভিডিও প্রমাণ ও ভবিষ্যৎ পথ
ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ চাইলে মামলা চালাতে পারে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল কৌঁসুলিদের নিষ্ক্রিয়তা রাজ্য কৌঁসুলিদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে তারা ন্যায়বিচারের পথ খোলা রাখেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















