১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা

ইসির কার্যক্রমে পক্ষপাতের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মির্জা ফখরুল

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, কমিশনের একাধিক কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতমূলক আচরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করা হলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক

রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠক শেষে সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে: মির্জা ফখরুল

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি

বৈঠক পরবর্তী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যালট এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সুবিধা পায়। তিনি দ্রুত সঠিক প্রতীকসংবলিত ব্যালট পেপার সরবরাহের দাবি জানান।

ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে সন্দেহ

ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড মাত্র ৫ মিনিটে, যা যা প্রয়োজন

প্রচারে সমান সুযোগ নেই

নির্বাচনী প্রচারে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষ্য, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একতরফা প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, কারা কী কারণে এই স্থানান্তর করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস

নিরপেক্ষতার আহ্বান

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব ধরনের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা

সবশেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাঁর দল মনে করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। তবে এর জন্য কমিশনকে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা

ইসির কার্যক্রমে পক্ষপাতের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মির্জা ফখরুল

০৮:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, কমিশনের একাধিক কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতমূলক আচরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করা হলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক

রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠক শেষে সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে: মির্জা ফখরুল

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি

বৈঠক পরবর্তী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যালট এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সুবিধা পায়। তিনি দ্রুত সঠিক প্রতীকসংবলিত ব্যালট পেপার সরবরাহের দাবি জানান।

ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে সন্দেহ

ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড মাত্র ৫ মিনিটে, যা যা প্রয়োজন

প্রচারে সমান সুযোগ নেই

নির্বাচনী প্রচারে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষ্য, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একতরফা প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, কারা কী কারণে এই স্থানান্তর করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস

নিরপেক্ষতার আহ্বান

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব ধরনের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা

সবশেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাঁর দল মনে করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। তবে এর জন্য কমিশনকে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।