আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে রোববারও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনের আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছে।
নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি
রোববার সকাল দশটায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির ছাত্রসংগঠন জেসিডির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ডাকভোট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

ডাকভোট ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
জেসিডি নেতারা অভিযোগ করেন, ডাকভোট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে কমিশন স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সাস্ট ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিকে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত বলে উল্লেখ করে জেসিডি নেতারা তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও প্রভাবের কারণেই নির্বাচন কমিশন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

জেসিডি সভাপতির বক্তব্য
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেসিডি সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যালট পেপার নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনে বসে থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি উসকানি ও সমর্থনে। তাঁর ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।
আপিল শুনানি চলছে নির্বাচন কমিশনে
এদিকে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিলের শেষ দিনের শুনানি চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল দশটায় এই শুনানি শুরু হয়। রোববার প্রায় পঁয়ত্রিশটি আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বিষয়ে জমে থাকা একাধিক আপিলও নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। কমিশন রোববারের মধ্যেই সব আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি শেষ করার পরিকল্পনা করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















