০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
জ্বালানি আধিপত্যের স্বপ্নে বাস্তবের ধাক্কা, ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে গাজা ধ্বংস থামেনি, যুদ্ধবিরতির মাঝেই গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি দ্বৈত নাগরিকেরা স্থানীয় ভোটে প্রার্থী হতে পারলেও সংসদ নির্বাচনে কেন পারেন না? জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের পরিবারে সহায়তায় আলাদা বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা বিএনপির: তারেক রহমান সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরু শক্ত অবস্থানে নির্বাচন ভবনের সামনে জেসিডির টানা কর্মসূচি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অভিযোগ যাত্রাবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১১ বছরের শিশুর রেজা পাহলভি কি সত্যিই ইরানের বিপ্লবের মুখ হতে পারেন ইরানের ইন্টারনেট অন্ধকারে রাষ্ট্রের দমননীতি, কীভাবে আড়াল করা হলো সহিংসতা

জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের পরিবারে সহায়তায় আলাদা বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা বিএনপির: তারেক রহমান

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারগুলোর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোববার শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোগ

তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকারে থাকাকালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও আহতদের পরিবার দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, যোদ্ধা ও আহতদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নতুন একটি বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে তাঁদের রেখে যাওয়া পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কাল মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান | The Business Standard

জুলাই যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি

বিএনপি চেয়ারম্যানের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতরা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ রাজপথে নেমেছিল। তাই তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই আলাদা বিভাগ গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশ

ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে সেখানে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। স্বজনদের স্মৃতিচারণে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তারেক রহমান মঞ্চ থেকে নেমে আহতদের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনেন এবং সান্ত্বনা দেন।

নিহতরা 'জুলাই শহীদ' ও আহতরা 'জুলাই যোদ্ধা' স্বীকৃতি পাবেন

জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ সময় ধরে বহু মানুষ নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত হন এবং শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে আহত হন, অনেকেই দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারান। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি কেউই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না।

২০২৪ সালের আন্দোলন জনগণের

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত গণমানুষের আন্দোলন। এই অর্জন টেকসই করতে হলে সবার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কোনো মহল যেন এই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ বিভাগ খোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ক্ষতিপূরণের দুই দিক

শহীদ পরিবার ও আহতদের কষ্ট কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্তত দুইভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়। একদিকে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে যে লক্ষ্য নিয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছিল—সবার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার—তা বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, দোকানকর্মী, চালক এমনকি শিশুরাও এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, যা দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যের প্রমাণ।

নির্বাচনের গুরুত্ব

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ ও আহতরা একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হলে দেশে শোকের গল্পই চলতে থাকবে। তিনি বলেন, শোক নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের গল্পই লেখা উচিত।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী। বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ ও আহতদের স্বজনরাও বক্তব্য দেন।

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা | The Daily Star Bangla

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি আধিপত্যের স্বপ্নে বাস্তবের ধাক্কা, ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে

জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের পরিবারে সহায়তায় আলাদা বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা বিএনপির: তারেক রহমান

০৬:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারগুলোর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোববার শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোগ

তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকারে থাকাকালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও আহতদের পরিবার দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, যোদ্ধা ও আহতদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নতুন একটি বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে তাঁদের রেখে যাওয়া পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কাল মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান | The Business Standard

জুলাই যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি

বিএনপি চেয়ারম্যানের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতরা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ রাজপথে নেমেছিল। তাই তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই আলাদা বিভাগ গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশ

ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে সেখানে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। স্বজনদের স্মৃতিচারণে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তারেক রহমান মঞ্চ থেকে নেমে আহতদের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনেন এবং সান্ত্বনা দেন।

নিহতরা 'জুলাই শহীদ' ও আহতরা 'জুলাই যোদ্ধা' স্বীকৃতি পাবেন

জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ সময় ধরে বহু মানুষ নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত হন এবং শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে আহত হন, অনেকেই দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারান। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি কেউই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না।

২০২৪ সালের আন্দোলন জনগণের

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত গণমানুষের আন্দোলন। এই অর্জন টেকসই করতে হলে সবার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কোনো মহল যেন এই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ বিভাগ খোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ক্ষতিপূরণের দুই দিক

শহীদ পরিবার ও আহতদের কষ্ট কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্তত দুইভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়। একদিকে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে যে লক্ষ্য নিয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছিল—সবার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার—তা বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, দোকানকর্মী, চালক এমনকি শিশুরাও এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, যা দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যের প্রমাণ।

নির্বাচনের গুরুত্ব

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ ও আহতরা একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হলে দেশে শোকের গল্পই চলতে থাকবে। তিনি বলেন, শোক নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের গল্পই লেখা উচিত।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী। বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ ও আহতদের স্বজনরাও বক্তব্য দেন।

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা | The Daily Star Bangla