শেরপুরের নালিতাবাড়ী নয়, নকলা উপজেলার চর বাসন্তী পূর্বপাড়া গ্রামে রোববার ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পারিবারিক কলহের জেরে নিজেরই সাত বছরের কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। নিহত শিশুটির নাম মরিয়ম। সে স্থানীয় বাসিন্দা বাবু মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিশুটির ছোট বোন, সাড়ে তিন বছরের মিম আক্তারও ওই ঘটনার সময় হামলার শিকার হয়। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত বাবা বাবু মিয়াকে আটক করা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রী হাসিনা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু মিয়া প্রথমে বড় মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর ছোট মেয়েকেও আঘাত করেন তিনি।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুরো গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা একে অমানবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, পারিবারিক কলহের বলি হয়ে শিশুকে এভাবে প্রাণ হারানো সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
পুলিশ ও তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশু হত্যা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত বাবাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে। আইন ও সামাজিক সচেতনতা জোরদার না হলে এমন ট্র্যাজেডি থামানো কঠিন বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















