দুবাইয়ের ক্রিক রিসোর্টে রোববারের সেই উত্তাল বিকেল শেষে ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে নাচো এলভিরা যেন নিজের কাছেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। চাপে ভরা শেষ রাউন্ডে স্নায়ুর শক্ত পরীক্ষা দিয়ে দুবাই ইনভিটেশনাল জিতে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর শিরোপা তুলে নিলেন স্পেনের এই গলফার।
শেষ দিনে পাঁচজন খেলোয়াড় একসঙ্গে লিড ভাগাভাগি করে নেওয়ায় প্রতিযোগিতাটি পরিণত হয়েছিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। এক মুহূর্তে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড় পরের মুহূর্তেই ছিটকে পড়ছিলেন শিরোপার দৌড় থেকে।
শেষ রাউন্ডের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ
রাতের লিডার হিসেবে মাঠে নামা এলভিরা শুরুতেই বার্ডি করে নিজের দুই শটের লিড ধরে রাখেন। চতুর্থ ও সপ্তম হোলে বার্ডি করার পর তিনি পৌঁছে যান এগারো আন্ডারে, তখন মনে হচ্ছিল শিরোপা বুঝি অনেকটাই হাতের মুঠোয়।
কিন্তু সামনের নয় হোলের শেষদিকে টানা দুটি বোগি ছবিটা বদলে দেয়। এলভিরা নেমে আসেন নয় আন্ডারে, আর সেই সুযোগে রোরি ম্যাকইলরয়, শেন লোরি, ড্যানিয়েল হিলিয়ার ও মার্কাস আরমিটেজ একে একে লিডে ভাগ বসান।
লিড বদলের ঝড়
শেন লোরি প্রথম চার হোলের মধ্যে তিনটিতে বার্ডি করে দ্রুত লিডে উঠে এলেও শেষ হোলে ডাবল বোগি করে হঠাৎ করেই শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যান। ম্যাকইলরয় শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও নবম হোল থেকে টানা পাঁচটি বার্ডি করে আবার শীর্ষে ফিরে আসেন।
হিলিয়ার তেরো নম্বর হোলে ঈগল করে আলোচনায় আসেন এবং পনেরো হোলে বার্ডি করে ক্লাবহাউস লিডার হিসেবে নয় আন্ডারে রাউন্ড শেষ করেন। পুরো মাঠ তখন তাকিয়ে শেষ দুই হোলে এলভিরার পারফরম্যান্সের দিকে।
শেষ হোলে এলভিরার ধীরস্থির জয়
সতেরো নম্বর হোলে ব্যাক নাইন-এর প্রথম বার্ডি করে এক শটের লিড নেন এলভিরা। শেষ হোলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল কেবল একটি পার। এক ফুটের পাটে দাঁড়িয়ে পুরো সপ্তাহের চাপ এসে পড়ে তার কাঁধে। নিখুঁত শান্ত মাথায় সেই পার আদায় করেই নিশ্চিত করেন স্মরণীয় জয়।
আবেগে ভেজা প্রতিক্রিয়া
জয়ের পর এলভিরা বলেন, এই জয় তার কাছে পুরো দুনিয়ার সমান। মঙ্গলবার যদি কেউ বলত তিনি এই টুর্নামেন্ট জিতবেন, তাহলে বিশ্বাসই করতেন না। পরিবারের সামনে, সন্তানদের চোখের সামনে এমন জয় তার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। শেষ পাটের আগ পর্যন্ত তিনি খুব একটা নার্ভাস ছিলেন না বলেও জানান এলভিরা। ধৈর্য ধরাটাই ছিল তার মূল শক্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















