মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্বাদশ দিনে গড়িয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, আর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে আবারও সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের নতুন হামলার ধাপ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মঙ্গলবার গভীর রাতে জানায়, তাদের সামরিক অভিযানের ৩৫তম ধাপ শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করে গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
ইসরায়েলের পাল্টা হামলা ও সতর্কতা
![]()
মঙ্গলবার রাতেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে ইরান সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় আরেক দফা হামলা শুরু করেছে। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘোষণা দেয়, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর পরিস্থিতি বারবার পরিবর্তিত হতে থাকে। কখনও বলা হয় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারে, আবার কিছু সময় পরই নতুন সতর্কবার্তা দিয়ে অনেককে পুনরায় আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরে যেতে বলা হয়।
বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা
লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও মঙ্গলবার ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। শহরের দক্ষিণ প্রান্তের ঘনবসতিপূর্ণ দাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের আলো পুরো শহরে দেখা যায় বলে বাসিন্দারা জানান। হামলা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে।
স্থানীয়দের মতে, বিকেলেই বিস্ফোরণ শুরু হয়েছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওই এলাকা খালি করার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ওই এলাকায় ইরানসমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে।
মধ্যরাতের পর ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, ইরানে হামলার পাশাপাশি দাহিয়া এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
![Al-Qassam Brigades praise Hezbollah counterattacks against Israel - [İLKHA] Ilke News Agency](https://ilkha.com/img/NewsGallery/2026/3/9/516859/FeaturedImage/883ef27e-f485-46ad-81f4-eefbabb3109a.jpg)
হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার তারা অন্তত ৩০টি হামলা চালিয়েছে। একই দিনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছে।
পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ভোরে সাইরেন বাজলে বাসিন্দাদের আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১০৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার তাদের আকাশসীমায় পাঁচটি ড্রোন প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মঙ্গলবার বিভিন্ন ঘোষণায় জানায়, দেশটি সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার ভোরে জানায়, তারা চারটি ড্রোন এবং সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। গত মাসের শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি ১১০টির বেশি ড্রোন হামলা, অন্তত নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে। মঙ্গলবার দিনভর তারা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন শনাক্ত করেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের দিকে মোট ১,৪৭৫টি ড্রোন, ২৬০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















