করাচি: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার টানা ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে পাকিস্তানের বাজারেও দামের নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই দেশটিতে প্রতি তোলায় সোনার দাম ৫ লাখ রুপির মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলে মনে করছেন স্বর্ণবাজার সংশ্লিষ্টরা।
দেশীয় বাজারে দ্রুত ঊর্ধ্বগতি
অল পাকিস্তান সরাফা জেমস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি তোলায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬২ রুপি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বাজারে, যার ফলে দাম দ্রুত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।

১০ গ্রাম সোনার দামেও বড় লাফ
একই সঙ্গে ১০ গ্রাম সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি ১০ গ্রামে ৬ হাজার ৪৩১ রুপি বৃদ্ধি পেয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৯ রুপি। গয়নার খুচরা চাহিদা তুলনামূলকভাবে কিছুটা দুর্বল থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অটুট থাকায় সোনার দামে এই ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের ঝোঁক
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৭৫ ডলার বেড়ে ৪ হাজার ৬৭০ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বড় অর্থনীতিগুলোতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু থাকতে পারে—এই প্রত্যাশাই সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

পাকিস্তানে দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া
স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তানে সোনার দাম সাধারণত আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে প্রতি আউন্সে প্রায় ২০ ডলার প্রিমিয়াম যোগ করে নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাব যুক্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তন হলেও স্থানীয় দামে তার বড় প্রতিফলন দেখা যায়।
রূপার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
এদিকে রূপার দামও বেড়েছে, যদিও সোনার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম হারে। প্রতি তোলায় ৩০০ রুপি বেড়ে রূপার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৮২ রুপি। একই সময়ে ১০ গ্রাম রূপার দাম ২৫৭ রুপি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮ হাজার ৩৮৬ রুপি। ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগ চাহিদার পাশাপাশি শিল্পখাতে ব্যবহারের কারণে রূপার বাজারেও স্থিতিশীল সমর্থন রয়েছে।
গয়নার চাহিদা কমছে, বাড়ছে বিনিয়োগ
জুয়েলার্সদের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বগতি গয়নার চাহিদাকে আরও সংকুচিত করেছে। উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতাই কেনাকাটা পিছিয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে মূলত বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে, যারা মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং সামগ্রিক আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষার জন্য সোনা ও রূপার দিকে ঝুঁকছেন।

সামনে কী বলছেন বিশ্লেষকরা
বিশ্লেষকদের সতর্কতা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের গতিবিধি এবং বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত অবস্থান আগামী দিনে মূল্যবান ধাতুর দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















