জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য বিক্রি করলেও দুই দশকের ক্যারিয়ারে এটিকেই সবচেয়ে কঠিন সময় বলে বর্ণনা করছেন চীনের রপ্তানি খাতের বিক্রয়কর্মী আইমি চেন। মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্ডার এক ধাক্কায় এক তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের মতো বহু সংস্থা নতুন বাজারের খোঁজে ছুটেছে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো তুলনামূলক স্বল্প আয়ের অঞ্চলে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এই কৌশলের ফলে ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় রেকর্ড বারো লাখ কোটি ডলারে।
রপ্তানি সাফল্যের পেছনের বাস্তবতা
রপ্তানি পরিসংখ্যান যতটা উজ্জ্বল, বাস্তবে বিক্রয়কর্মীদের অভিজ্ঞতা ততটাই কঠিন। নতুন বাজার থেকে আসা অর্ডার গুলোর বেশির ভাগই আকারে ছোট ও লাভে কম। ফলে কমিশন কমছে, আয় অনিশ্চিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে শিল্প খাতের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় তেরো শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর মানসিক চাপ
বিক্রয়কর্মীরা জানাচ্ছেন, অর্ডার বাড়লেও কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। দীর্ঘ সময় ধরে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, রাতদিন অনলাইনে থাকা এবং অর্থপ্রাপ্তির ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। আইমি চেন বলছেন, উদ্বেগ এতটাই বেড়েছে যে চুল পড়া ও ঘুমহীনতার মতো সমস্যায় ভুগছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সস্তা ও ছোট অর্ডার উচ্চ ভলিউমের উপর নির্ভরশীল এই কৌশল শ্রমঘনতা বাড়াচ্ছে এবং আয়ের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
নতুন বাজার, নতুন চ্যালেঞ্জ
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের জায়গায় এখন টানাপোড়েন। আগে মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি ছিল দ্রুত ও সহজ, দরকষাকষি কম। নতুন বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। দাম নিয়ে দীর্ঘ দরকষাকষি, বিলম্বিত অর্থপ্রদান এবং বিশ্বাস যোগ্যতার অভাব বিক্রয়কর্মীদের কাজ কঠিন করে তুলছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা রপ্তানি কমেছে বিশ শতাংশ, তবে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

কম লাভ, বেশি প্রত্যাশা
মুনাফা কমায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রয়কর্মীদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। শেনঝেনে বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি বিক্রি করা তরুণ কর্মী সিসি লু জানাচ্ছেন, মাসিক আয় কারখানার শ্রমিকদের চেয়ে খুব বেশি নয়, অথচ কাজ শেষের নির্দিষ্ট সময় নেই। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ রাখতে হয়। কখনো মাসের পর মাস কথা বলে শেষ পর্যন্ত একটি মাত্র পণ্যের অর্ডার আসে, যার কমিশন দুই ডলারেরও কম।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রয়কর্মীদের এই কষ্ট ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত। বিদেশি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। অভ্যন্তরীণ ভোগব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে চীনা প্রতিষ্ঠান গুলো বিদেশে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে মুনাফা হারাবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য স্থানীয় বাজার উন্নয়নের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















