ইতালির কিংবদন্তি ফ্যাশন ডিজাইনার ভ্যালেন্তিনো গারাভানি আর নেই। রোমে নিজ বাসভবনে সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল তিরানব্বই বছর। তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সারাক্ষণ রিপোর্ট।
লাল রঙে ফ্যাশনের বিপ্লব
কারমাইন আর স্কারলেটের মিশেলে কমলা আভা, বার্সেলোনার অপেরা হাউসে এক বয়স্ক নারীর আভিজাত্যে অনুপ্রাণিত হয়ে যে রঙের জন্ম, সেটিই পরে পরিচিত হয় ভ্যালেন্তিনো লাল নামে। উনিশশো ঊনষাট সালে ড্রেপড টিউলের স্ট্র্যাপলেস ককটেল পোশাকে সেই রঙ প্রথম বিশ্ব ফ্যাশনের মঞ্চে আসে। এরপর থেকে প্রতিটি সংগ্রহেই অন্তত একটি লাল পোশাক রাখা ছিল তার অঘোষিত নিয়ম। ভ্যালেন্তিনোর ভাষায়, লাল পোশাকে নারী মানেই নায়িকার প্রতিচ্ছবি।

ফ্যাশনের সম্রাটের উত্থান
ফ্যাশন দুনিয়ায় যাকে সম্রাট বলা হতো, সেই ভ্যালেন্তিনো ছিলেন এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যখন নকশাকাররাই ছিলেন ফ্যাশনের কেন্দ্র। জর্জিও আরমানি ও কার্ল ল্যাগারফেল্ডের সঙ্গে একই সারিতে তার নাম উচ্চারিত হতো। প্যারিসের অভিজাত হট কুতুর মঞ্চে প্রথম ইতালীয় হিসেবে জায়গা করে নেওয়াও তারই কৃতিত্ব।
রূপালি পর্দার নারীদের স্বপ্নের ডিজাইনার
ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। হলিউডের রূপালি পর্দার সুন্দরীদের পোশাক পরানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। এক সময় সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। এলিজাবেথ টেলারের বিয়ের পোশাক তৈরি করেন ভ্যালেন্তিনো। শ্যারন স্টোন ও পেনেলোপে ক্রুসসহ বহু অস্কারজয়ী অভিনেত্রীর প্রথম পছন্দ ছিলেন তিনি। জ্যাকি কেনেডির পোশাকেও ছিল তার ছোঁয়া।
সৌন্দর্যের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতা
দেখতে সহজ হলেও তার নকশায় ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ। জর্জেট কাপড়, শিফনের ভাঁজ আর হাতে তৈরি অলংকরণ তাকে এনে দেয় অসংখ্য পুরস্কার। ভ্যালেন্তিনো বলতেন, সৌন্দর্যকে ভালোবাসাই তার অপরাধ, আর নারীরা সুন্দর হতে চায়—এই সত্য তিনি জানতেন।

সহযাত্রায় গিয়াঙ্কার্লো জিয়ামেত্তি
উনিশশো ষাট সালে রোমের এক ক্যাফেতে পরিচয় হয় গিয়াঙ্কার্লো জিয়ামেত্তির সঙ্গে। ব্যবসা ও জীবনের সঙ্গী হিসেবে আজীবন পাশে ছিলেন তিনি। সৃজনশীল দায়িত্ব সামলাতেন ভ্যালেন্তিনো, আর ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জিয়ামেত্তি। তাদের সম্পর্ককে ভ্যালেন্তিনো বর্ণনা করেছিলেন ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য এক সহযাত্রা হিসেবে।
বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত
দুই হাজার সাত সালে রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার উদযাপন করা হয়। কিছুদিন পরই তিনি নকশা থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার শেষ ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয় দুই হাজার আট সালে প্যারিসে, যে শহরকে তিনি দ্বিতীয় বাড়ি বলতেন।

লাল রঙেই শেষ শ্রদ্ধা
অবসরের পরও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতায় সক্রিয় ছিলেন ভ্যালেন্তিনো ও জিয়ামেত্তি। দুই হাজার পঁচিশ সালে রোমে তাদের প্রতিষ্ঠানের গ্যালারির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর বিষয় ছিল লাল রঙ। জিয়ামেত্তির ভাষায়, লাল শুধু রঙ নয়, এটি এক শক্তিশালী নান্দনিক প্রতীক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















