নিজস্ব প্রতিবেদক
বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে দেশের গণমাধ্যম। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হলো বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমষ্টি। আলোচনায় বিশ্বব্যাপী চলমান পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় সংবাদমাধ্যমগুলোর আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিকরা।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক ও চ্যানেল আই-এর জ্যেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান। এরপর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৪-এর প্রতিপাদ্যের বিভিন্ন দিক এবং ২০২২ সালে সমষ্টি আয়োজিত প্রেস ফ্রিডম ক্যাম্পে প্রণীত ঢাকা ঘোষণার সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন সমষ্টি’র গবেষণা ও যোগাযোগ পরিচালক রেজাউল হক।
সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ুগত প্রবণতা, সেগুলোর কারণ ও প্রভাব নিয়ে পদ্ধতিগত উপায়ে বিশ্লেষণধর্মী এবং অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার মাধ্যমে তারা পরিবেশের ক্ষতি মোকাবেলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ওপর পরিবেশ-বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রভাব তুলে ধরা ও দায়িদের চিহ্নিত করা, দায়িত্বশীলদের ভূমিকা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ বাড়বে।
পরিবেশ ও জলবায়ুগত বিপর্যয়ের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে মুক্ত সাংবাদিকতার সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরে তারা বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপূর্ণ চর্চা থাকলে পরিবেশ ও জলবায়ুগত অনেক বিষয়ে সাংবাদিকরা আরো ভূমিকা রাখতে পারবেন। এজন্য সহায়ক আইনি কাঠামো, নীতির ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের অভাব, পরিবেশ-বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের চাপ বা হুমকি, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলো এ ধরনের সাংবাদিকতার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার এরকম বিশেষায়িত বিষয়বস্তুর ওপর সাংবাদিকদের প্রস্তুতির ঘাটতিও এ ধরনের রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠু, জাহিদ নেওয়াজ খান, শাহনাজ বেগম, কাওসার সোহেলি, বোরহানুল হক সম্রাট, সালমা ইয়াসমিন, শাহনাজ শারমীন, শাহনাজ পারভীন এলিস, তানিয়া রহমান, কামরুন্নাহার, আতিকা রহমানসহ অন্যরা।
ঢাকা ঘোষণায় স্বাধীন সাংবাদিকতাকে আরও সুরক্ষিত করা ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয় এমন আইন, নীতি, বিধি-বিধান ও অন্যান্য উপাদান বিলুপ্ত করতে এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আইনপ্রণেতা ও নীতি-নির্ধারণী পক্ষ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন অংশীজনদের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।
Sarakhon Report 



















