ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পথে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল দাঁড়িয়েছে ৪,৩৯৮ দিনে এবং পরদিন তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড অতিক্রম করবেন।
অমিত শাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের অনন্য মর্যাদা অর্জন করতে চলেছেন। তাঁর দাবি, মোদির নেতৃত্বে জনকল্যাণকে শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি
বুধবার রাজধানী দিল্লিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সদস্যরা একত্রিত হয়ে কেন্দ্রে জোট সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এই উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদির দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অবস্থানে নিয়ে গেছে।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
এদিন অমিত শাহ একটি নতুন ভূমি বন্দর ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শুধুমাত্র নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে না দেখে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সীমান্ত অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তাঁর মতে, স্থলবন্দরগুলো এখন একদিকে যেমন দেশের নিরাপত্তার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করছে, তেমনি বৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সীমান্ত এলাকা থেকে মানুষের স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
![]()
স্মার্ট সীমান্ত গঠনের পরিকল্পনা
অমিত শাহ জানান, ভারতের বিস্তৃত স্থলসীমান্ত কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘স্মার্ট সীমান্ত’ ধারণার আওতায় চারস্তরবিশিষ্ট কৌশল নিয়ে কাজ করছে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাটি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিত ও আধুনিক হবে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং একক ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে সময়ও সাশ্রয় হবে।
সরকারের দাবি, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ রোধে সহায়তা করবে এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















