পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে সিআইডির তল্লাশিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি চিঠিতে দুই বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির একটি দল কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় পৌঁছায়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঠিকানাটি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন নয়, দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই তদন্তের স্বার্থে সেখানে তল্লাশি চালানো প্রয়োজন ছিল।
তল্লাশিকে ঘিরে উত্তেজনা
সিআইডি কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রথমে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হয়। দলীয় পক্ষ থেকে বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ উপস্থিত না থাকায় তল্লাশির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে তদন্তকারীরা জানান, তারা বাসভবন নয়, ওই প্রাঙ্গণে থাকা দলীয় কার্যালয়েই তল্লাশি চালাতে এসেছেন। পরে বিকেল চারটার দিকে তারা ভেতরে প্রবেশ করে অনুসন্ধান শুরু করেন।
তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ
তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে অবস্থান করার সময়ই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
দলীয় নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তদন্তের প্রয়োজনই থাকত, তাহলে এতদিন অপেক্ষা না করে আগে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চাপে রাখার একটি কৌশল।
রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনও এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে দলের আরও কয়েকজন নেতা দাবি করেন, তদন্তের নামে হয়রানির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারের অবস্থান
রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন, আইনের চোখে কেউই ঊর্ধ্বে নন। তার মতে, তদন্ত সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
কী এই স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ?
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি চিঠি। দুই তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ করেন, ওই চিঠিতে তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একাধিকবার তলব করা হয়। কারণ সংশ্লিষ্ট চিঠিতে তার স্বাক্ষর ছিল বলে জানা গেছে। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি সরাসরি হাজির হতে পারেননি এবং অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
মঙ্গলবারও নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজির না হয়ে তদন্তকারীদের কাছে আরও সময়ের আবেদন জানান। একই সঙ্গে সিআইডি ওই মামলার সূত্র ধরে দলের আরেকটি কার্যালয়েও অনুসন্ধান চালায়।
রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে
ঘটনাটি শুধু একটি তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















