বিশ্ববাজারে সোনার দামে আবারও ইতিহাস তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা ও দুর্বল ডলারের প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা তীব্রভাবে বেড়েছে। এর ফলেই এক আউন্স সোনার দাম প্রথমবারের মতো সাড়ে চার হাজার সাতশ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সোনার উত্থান
মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্পট সোনার দাম প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে এক আউন্সে চার হাজার সাতশ সাতান্ন ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে। দিনের একপর্যায়ে দাম উঠেছিল চার হাজার সাতশ পঁয়ষট্টি ডলারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারে ফেব্রুয়ারির সোনার চুক্তিও প্রায় চার শতাংশ বেড়ে দিনের শেষে নতুন উচ্চতায় বন্ধ হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ইউরোপকে ঘিরে শুল্ক আরোপের নতুন হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দুর্বল ডলার, শক্তিশালী সোনা
ডলারের মান কমে যাওয়াও সোনার দাম বাড়ার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডলার দুর্বল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। ফলে চাহিদা বাড়ে এবং দাম আরও চাঙা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতনের পথে থাকায় এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

সুদ কমার প্রত্যাশা বাজারকে উসকে দিচ্ছে
সোনার দামে এই দীর্ঘমেয়াদি উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কমার প্রত্যাশাও বড় ভূমিকা রাখছে। বাজার ধারণা করছে, আগামী বছর মাঝামাঝি সময় থেকে সুদ কমাতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদ কমলে সুদহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ আরও বাড়ে। গত বছরে সোনার দাম প্রায় চৌষট্টি শতাংশ বেড়েছিল, আর চলতি বছরের শুরু থেকেই দাম আরও দশ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরবর্তী লক্ষ্য পাঁচ হাজারের দোরগোড়ায়
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে চার হাজার আটশ থেকে চার হাজার নয়শ ডলার। দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যে এখনো সোনার পক্ষেই রয়েছে, সেটাই স্পষ্ট।
রুপা ও অন্যান্য ধাতুর বাজার
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নতুন রেকর্ড গড়েছে। একপর্যায়ে রুপার দাম এক আউন্সে পঁচানব্বই ডলার ছাড়িয়ে যায়, যদিও পরে সামান্য কমে লেনদেন হয়েছে। গত বছরে রুপার দাম দেড়শ শতাংশের কাছাকাছি বেড়েছিল এবং চলতি বছরেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও এদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















