যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঁচশ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন পঁচিশ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে। তবে এই শুল্ক হুমকির মূল লক্ষ্য ভারত নয়, বরং চীন।
মার্কিন শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে বক্তব্য
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর পাঁচশ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের জন্য সিনেটের আলাদা অনুমোদন ট্রাম্পের প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদিও সিনেট চাইছে বিষয়টি আইনি অনুমোদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে।

ভারত প্রসঙ্গে কী বললেন বেসেন্ট
ভারত সম্পর্কে বেসেন্টের বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন পঁচিশ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর নয়াদিল্লি ধীরে ধীরে সেই আমদানি কমিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে ভারত আর রুশ তেল কিনছে না।
![]()
ইউরোপ ও চীনের দিকে অভিযোগের তীর
বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ শুরুর চার বছর পরও ইউরোপ রাশিয়ার তেল কিনে কার্যত নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি চীনের দিকেও আঙুল তোলেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার তেল কেনার কারণে চীনের ওপর পাঁচশ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে।
সিনেটের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বিল
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রস্তাবিত রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের মাধ্যমে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। তাঁর বক্তব্য, সস্তা রুশ তেল কেনা বন্ধ করাতে এই বিল প্রেসিডেন্টকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ দেবে।

ভারতের সরকারি প্রতিক্রিয়া
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বিল নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং সব ধরনের অগ্রগতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হয় বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে।
সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করার বার্তা
ভারত পুনরায় জানিয়েছে, একশ চল্লিশ কোটির বেশি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই দেশটি বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















