ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি তেলবাহী জাহাজ দখলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে সপ্তমবারের মতো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করে। এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক অভিযানের বিবরণ
মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানায়, ‘সাগিট্টা’ নামের জাহাজটি কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন কোয়ারেন্টাইন অমান্য করে চলাচল করছিল। তবে আগের ঘটনাগুলোর মতো এবার কোস্ট গার্ড জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। পেন্টাগন থেকেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাহাজটির পরিচয় ও পটভূমি
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী সাগিট্টা নামের এই ট্যাঙ্কারটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা একটি হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। জাহাজটি সর্বশেষ দুই মাসেরও বেশি আগে নিজের অবস্থান জানিয়েছিল, যখন এটি উত্তর ইউরোপের বাল্টিক সাগর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া–সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের আওতায় জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের অভিযোগ
মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সাগিট্টা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বহন করছিল। তাদের দাবি, এই জাহাজ আটক প্রমাণ করে যে ভেনেজুয়েলা থেকে শুধু সেই তেলই রপ্তানি হতে পারবে, যা আইনি ও সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনুমোদিত। অভিযানের সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে জাহাজটিকে সমুদ্রে চলতে দেখা গেলেও আগের মতো হেলিকপ্টারে করে সেনা নামানোর দৃশ্য ছিল না।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল
৩ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর থেকেই দেশটির তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্রিয় হয় ট্রাম্প প্রশাসন। রিপাবলিকান প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তেলবাহী জাহাজ জব্দের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত তেল শিল্প পুনর্গঠন এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব।
বিনিয়োগ ও তেল বিক্রির পরিকল্পনা
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল খাতে একশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য তুলে ধরেন। সে সময় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির পরিকল্পনা করছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, খোলা বাজারে তেল বিক্রির ফলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে।

আগের জাহাজ আটক ও ব্যতিক্রমী ঘটনা
প্রথম তেল ট্যাঙ্কারটি গত ১০ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার উপকূলে আটক করা হয়। অধিকাংশ জাহাজই ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি জলসীমায় ধরা পড়ে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ‘বেলা ১’ নামের জাহাজটি। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচল করছিল এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে ইউরোপের দিকে রওনা দেয়। শেষ পর্যন্ত ৮ জানুয়ারি সেটিও মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















