রপ্তানিমুখী ও দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে চাঙ্গা করতে ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নে এই খাতের নগদ প্রবাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পুনঃতফসিল আবেদনের সময়সীমা
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের আবেদন করা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নির্মাণ শিল্প
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি কৌশলগত খাত। শিল্পটিকে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করতেই বিশেষ এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ডাউন পেমেন্ট ও পুনঃতফসিলের শর্ত
সার্কুলার অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ শ্রেণীকৃত হয়েছে, সেগুলো পুনঃতফসিল করতে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১.৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের নির্দেশনার আওতায় যেসব ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলেই চলবে। এ ক্ষেত্রে পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়ানো যাবে।

গ্রেস পিরিয়ডে সুদ পরিশোধের নিয়ম
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ আলাদা ব্লকড হিসাবে রাখা হবে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষে সেই সুদ সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। পুরো ঋণের কিস্তিও মাসিক বা ত্রৈমাসিকভাবে দিতে হবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আবার নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকৃত হবে।
নতুন ঋণের সুযোগ থাকবে
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও তদারকি
গ্রাহকরা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন পাওয়ার পর ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















