বাংলাদেশে মসজিদ পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। এই নীতিমালার মাধ্যমে মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন গ্রেড, নিয়োগবিধি, ছুটি, সঞ্চয় ও অবসর-সুবিধাসহ নানা কল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নীতিমালার প্রকাশ ও প্রণয়ন প্রক্রিয়া
সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ সংখ্যায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫ প্রকাশ করা হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটি দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করে। এসব বৈঠকে খ্যাতিমান আলেম, ইমাম ও খতিব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন এসব বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বেতন গ্রেড ও পারিশ্রমিক কাঠামো
নতুন নীতিমালায় খতিব ছাড়া অন্যান্য মসজিদ কর্মীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবদের পারিশ্রমিক চুক্তিভিত্তিক হবে। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল মসজিদ এবং যেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়, সেখানে মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী বেতন ও ভাতা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমাম পাবেন গ্রেড-৫, পেশ ইমাম গ্রেড-৬ এবং ইমাম গ্রেড-৯ অনুযায়ী বেতন। প্রধান মুয়াজ্জিনের জন্য গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের জন্য গ্রেড-১১, প্রধান খাদেমের জন্য গ্রেড-১৫ এবং খাদেমের জন্য গ্রেড-১৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবাসন, সঞ্চয় ও অবসর সুবিধা
মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মীদের জন্য পারিবারিক আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে মাসিক সঞ্চয় কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। চাকরি শেষে এককালীন সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ছুটি ও কর্মসুবিধা
নীতিমালায় মসজিদ কর্মীদের মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনের কর্মসেবার বিপরীতে এক দিনের অর্জিত ছুটির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিয়োগবিধি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা
প্রতিটি মসজিদের জন্য সাত সদস্যের একটি নিয়োগ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন, ভাতা, দায়িত্ব ও অন্যান্য চাকরির শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নতুন পদ ও নারী নামাজের ব্যবস্থা
নীতিমালায় নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো নতুন পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শরিয়াহ অনুযায়ী নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বিরোধ নিষ্পত্তি
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ করা হয়েছে। মসজিদের আয়, আকার ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা সমাধান করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















