০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল তেলের দাম তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার সিলেটের অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি: একক ভ্যাট, হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরীমণির আর্জেন্টিনা প্রেম: মেসি জার্সিতে তারকাদের সিগনেচার উদযাপন অনুকরণ নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫; নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে সড়ক অবরোধ আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ব্রিটিশ বার থেকে সাময়িক বরখাস্ত অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬ রানও থামাতে পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ জিতে নিল সফরকারীরা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই মোহাম্মদপুরে কুপিয়ে জখম বিএনপি নেতা, রাজনৈতিক বিরোধের ইঙ্গিত একজন টিউলিপের গল্প চলে গেলেন পুঁজি বাজারের অন্যতম পথিকৃৎ ইয়াওয়ার সায়ীদ

সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: বাণিজ্য দ্বিগুণের লক্ষ্য থেকে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব

নয়াদিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাম্প্রতিক ভারত সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গত এক দশকে একাধিকবার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিচ্ছেন কূটনীতিকেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক—সব দিকই নতুন করে পর্যালোচনা ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত এসেছে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় লক্ষ্য
দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাণিজ্য দ্রুত বেড়ে বর্তমানে একশ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে নেতারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করে দুইশ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুল্ক ছাড়, সরবরাহ শৃঙ্খল সহজীকরণ ও নতুন বাজার সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংযোগ
ভারত ও আমিরাত উভয় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করতে একাধিক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে এসব উদ্যোক্তার পণ্য পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ও ভৌত বাণিজ্য অবকাঠামো জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ ও অবকাঠামোয় নতুন সুযোগ
দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির ফলে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। গুজরাটের ধোলেরায় বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চলে অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর, রেল যোগাযোগ ও আধুনিক নগর উন্নয়নে আমিরাতের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের অবকাঠামো তহবিলে আমিরাতের সার্বভৌম তহবিলের আরও বিনিয়োগ আহ্বান জানানো হয়েছে।

UAE President Mohamed bin Zayed Visits India for Strategic Talks

ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা
ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে আমিরাতের বড় ব্যাংক ও বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতীয় করপোরেট ও বিনিয়োগকারীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বাজারে প্রবেশ সহজ করবে।

মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ
মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

ডিজিটাল ও খাদ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা
দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল দূতাবাস স্থাপনের ধারণা আলোচনায় এসেছে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন রূপ দিতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে টেকসই কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব
উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ছোট মডুলার চুল্লি উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত এসেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সামরিক মহড়াসহ যৌথ সক্ষমতা বাড়াবে।

সংস্কৃতি, শিক্ষা ও জনগণের সম্পর্ক
দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন বিনিময় এবং আবুধাবিতে ‘হাউস অব ইন্ডিয়া’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও যুব বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল তেলের দাম

সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: বাণিজ্য দ্বিগুণের লক্ষ্য থেকে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব

০৫:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নয়াদিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাম্প্রতিক ভারত সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গত এক দশকে একাধিকবার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিচ্ছেন কূটনীতিকেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক—সব দিকই নতুন করে পর্যালোচনা ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত এসেছে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় লক্ষ্য
দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাণিজ্য দ্রুত বেড়ে বর্তমানে একশ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে নেতারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করে দুইশ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুল্ক ছাড়, সরবরাহ শৃঙ্খল সহজীকরণ ও নতুন বাজার সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংযোগ
ভারত ও আমিরাত উভয় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করতে একাধিক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে এসব উদ্যোক্তার পণ্য পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ও ভৌত বাণিজ্য অবকাঠামো জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ ও অবকাঠামোয় নতুন সুযোগ
দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির ফলে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। গুজরাটের ধোলেরায় বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চলে অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর, রেল যোগাযোগ ও আধুনিক নগর উন্নয়নে আমিরাতের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের অবকাঠামো তহবিলে আমিরাতের সার্বভৌম তহবিলের আরও বিনিয়োগ আহ্বান জানানো হয়েছে।

UAE President Mohamed bin Zayed Visits India for Strategic Talks

ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা
ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে আমিরাতের বড় ব্যাংক ও বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতীয় করপোরেট ও বিনিয়োগকারীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বাজারে প্রবেশ সহজ করবে।

মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ
মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

ডিজিটাল ও খাদ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা
দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল দূতাবাস স্থাপনের ধারণা আলোচনায় এসেছে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন রূপ দিতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে টেকসই কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব
উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ছোট মডুলার চুল্লি উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত এসেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সামরিক মহড়াসহ যৌথ সক্ষমতা বাড়াবে।

সংস্কৃতি, শিক্ষা ও জনগণের সম্পর্ক
দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন বিনিময় এবং আবুধাবিতে ‘হাউস অব ইন্ডিয়া’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও যুব বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।