০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের দুবাই মেরিনায় নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, হতাহতের খবর নেই বিজেপির সমর্থন নয়, শর্ত দিয়ে বিজয়ের টিভিকেকে পাশে দাঁড়াতে চায় কংগ্রেস কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসে জল্পনা, দৌড়ে সাথীসন-ভেনুগোপাল-চেন্নিথলা আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নাও থাকতে পারে বিজয়ের ১৫ বছরের মাঠ প্রস্তুতি, তারপরই টিভিকে’র রাজনৈতিক উত্থান বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রাহুলের অভিযোগ, ‘বাংলা-আসামে জনগণের রায় চুরি করেছে বিজেপি’ মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পিছুটান, শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার, সমঝোতার ইঙ্গিত দাভোসে

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে হঠাৎ সুর বদলালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসে তিনি জানালেন, ডেনমার্কের অধীন এই ভূখণ্ড নিয়ে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যে বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল, বুধবার তা অনেকটাই প্রশমিত করলেন ট্রাম্প নিজেই।

দাভোসে বক্তব্য ও বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রশ্নই নেই। বরং পশ্চিমা আর্কটিক মিত্রদের সঙ্গে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পথে এগোনো হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে সহায়ক হবে। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি চুক্তি, যাতে সবাই খুশি থাকবে এবং যা দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।

Trump backs down on Greenland tariffs, says deal framework reached

নাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক

সুইজারল্যান্ডের আল্পস এলাকায় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের এই অবস্থান স্পষ্ট হয়। রুটে পরে জানান, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ থাকবে কি না, সে বিষয়টি আলোচনাতেই আসেনি। তাঁর মতে, ট্রাম্পের মূল মনোযোগ ছিল আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সেখানে ক্রমবর্ধমান রুশ ও চীনা তৎপরতা ঠেকানোর কৌশল নিয়ে।

এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত মালিকানা প্রশ্নে চাপ না বাড়িয়ে কৌশলগত সহযোগিতার পথ বেছে নিতে চায়। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে, যার লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কোনো অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে নেটো মহাসচিব রাটের বৈঠক - এশিয়া  বার্তা

শুল্ক হুমকি থেকে সরে আসা

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যৎ একটি চুক্তির কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো একমত হয়েছে। এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির শুরুতে যে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, এতে মিত্রদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত কিছুটা হলেও কমেছে, যদিও পুরো বিরোধ এখনও মিটে যায়নি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং গ্রিনল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি জানান, এই ইস্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, নীরব কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।

Trump backs down on Greenland tariffs, says deal framework reached

দাভোসে ট্রাম্পের প্রভাব

দাভোস সফরে ট্রাম্পের বক্তব্য ও আচরণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিনি ইউরোপকে নানা ইস্যুতে সমালোচনা করেন, অভিবাসন থেকে শুরু করে পরিবেশ নীতি পর্যন্ত। একই সঙ্গে নিজেকে পশ্চিমা মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসেন, তবু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা উল্লেখ করে নিজের প্রভাব দেখাতেও ভোলেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কেবল নিরাপত্তা বা খনিজ সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের একটি ঐতিহাসিক ছাপ রেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও এর পেছনে কাজ করছে। তবে বর্তমান অবস্থানে তিনি সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথেই হাঁটছেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পিছুটান, শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার, সমঝোতার ইঙ্গিত দাভোসে

১০:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে হঠাৎ সুর বদলালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসে তিনি জানালেন, ডেনমার্কের অধীন এই ভূখণ্ড নিয়ে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যে বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল, বুধবার তা অনেকটাই প্রশমিত করলেন ট্রাম্প নিজেই।

দাভোসে বক্তব্য ও বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রশ্নই নেই। বরং পশ্চিমা আর্কটিক মিত্রদের সঙ্গে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পথে এগোনো হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে সহায়ক হবে। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি চুক্তি, যাতে সবাই খুশি থাকবে এবং যা দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।

Trump backs down on Greenland tariffs, says deal framework reached

নাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক

সুইজারল্যান্ডের আল্পস এলাকায় ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের এই অবস্থান স্পষ্ট হয়। রুটে পরে জানান, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ থাকবে কি না, সে বিষয়টি আলোচনাতেই আসেনি। তাঁর মতে, ট্রাম্পের মূল মনোযোগ ছিল আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সেখানে ক্রমবর্ধমান রুশ ও চীনা তৎপরতা ঠেকানোর কৌশল নিয়ে।

এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত মালিকানা প্রশ্নে চাপ না বাড়িয়ে কৌশলগত সহযোগিতার পথ বেছে নিতে চায়। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে, যার লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কোনো অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে নেটো মহাসচিব রাটের বৈঠক - এশিয়া  বার্তা

শুল্ক হুমকি থেকে সরে আসা

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যৎ একটি চুক্তির কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো একমত হয়েছে। এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির শুরুতে যে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, এতে মিত্রদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত কিছুটা হলেও কমেছে, যদিও পুরো বিরোধ এখনও মিটে যায়নি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং গ্রিনল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি জানান, এই ইস্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, নীরব কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।

Trump backs down on Greenland tariffs, says deal framework reached

দাভোসে ট্রাম্পের প্রভাব

দাভোস সফরে ট্রাম্পের বক্তব্য ও আচরণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিনি ইউরোপকে নানা ইস্যুতে সমালোচনা করেন, অভিবাসন থেকে শুরু করে পরিবেশ নীতি পর্যন্ত। একই সঙ্গে নিজেকে পশ্চিমা মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসেন, তবু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা উল্লেখ করে নিজের প্রভাব দেখাতেও ভোলেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কেবল নিরাপত্তা বা খনিজ সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের একটি ঐতিহাসিক ছাপ রেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও এর পেছনে কাজ করছে। তবে বর্তমান অবস্থানে তিনি সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথেই হাঁটছেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।