সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত যে অঞ্চলগুলো ছিল, সেগুলোর ওপর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পেছনে এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশল কাজ করেছে। দামেস্ক, প্যারিস ও ইরাকে ধারাবাহিক গোপন বৈঠকের মধ্য দিয়েই এই অভিযানের রূপরেখা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বাধা দেয়নি, বরং ধীরে ধীরে তাদের পুরোনো মিত্র কুর্দি বাহিনীর জায়গায় সিরিয়ার নতুন সরকারকে গ্রহণ করেছে।
ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে দেশের সব ভূখণ্ড এক নেতৃত্বের অধীনে আনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেকে প্রধান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর ফলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের স্বপ্ন কার্যত ভেঙে পড়ে। একসময় আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আলোচনা ব্যর্থ হতেই অভিযানের গতি
দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে দামেস্কের একীভূতকরণ নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। বছরের শেষ সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার হয়। জানুয়ারির শুরুতে দামেস্কে একটি বৈঠক ভেঙে দেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। পরদিন প্যারিসে নিরাপত্তা আলোচনায় অংশ নিয়ে সিরীয় প্রতিনিধিরা সীমিত অভিযানের ইঙ্গিত দেন এবং সেখানে কোনো বড় আপত্তি ওঠেনি বলে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদল
দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। অভিযানের শুরুতে কুর্দি নেতৃত্বকে জানানো হয়, ওয়াশিংটনের প্রধান স্বার্থ এখন শারার সরকারের সঙ্গে। যদিও বেসামরিক কুর্দিদের নিরাপত্তা ও উগ্রবাদী বন্দিশিবির স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে কিছু আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সেই সমর্থন প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না বলে কুর্দি নেতারা অভিযোগ করেছেন।

শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ও নতুন যুদ্ধবিরতি
অভিযানের শেষ ধাপে শারার বাহিনী যখন কুর্দিদের শেষ ঘাঁটিগুলোর দিকে অগ্রসর হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর উদ্বেগ বাড়ে। যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে অগ্রযাত্রা চলায় নতুন নিষেধাজ্ঞার আলোচনা পর্যন্ত শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হঠাৎ করেই শারা নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং কুর্দি বাহিনীকে একীভূতকরণের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দেন। এই ঘোষণার পরই ওয়াশিংটন সন্তোষ প্রকাশ করে।

নতুন বাস্তবতা ও কুর্দিদের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের বক্তব্য অনুযায়ী, কুর্দি বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে এবং তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ এখন শারার নতুন সরকারের অধীনেই। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের জটিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করল, যেখানে কুর্দিদের ভূমিকা ও প্রভাব বড় প্রশ্নের মুখে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















