নাটোরের সিংড়া উপজেলায় গভীর রাতে ধারাবাহিক সহিংসতায় বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওহাবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যেখানে আগুনে পুড়ে তার বৃদ্ধ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। পরপর দুই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের পরিচয়
পুলিশ জানায়, নিহত রেজাউল করিম বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি সিংড়া উপজেলার বিএনপির অঙ্গসংগঠন জিয়া পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত। অপর নিহত সাবিয়া, বয়স পঁচাত্তর বছর, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুল ওহাবের মা।

যেভাবে হত্যা করা হয়
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসএম আবদুর নূর জানান, বুধবার রাত প্রায় এগারোটার দিকে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত রেজাউল করিমের বাড়িতে আসে। তারা তাকে বাইরে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ
হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর কুমারপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওহাবের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ওই সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করা সাবিয়া আগুনে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। এলাকাবাসীর দাবি, হামলাটি ছিল সংগঠিত এবং পূর্বপরিকল্পিত।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
পুলিশের ধারণা, রেজাউল করিম হত্যার ঘটনার সঙ্গে আবদুল ওহাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সন্দেহ থেকে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, দুই মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা
পরপর এই সহিংস ঘটনায় সিংড়া উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
#নাটোর #সিংড়া #রাজনৈতিকসহিংসতা #বিএনপি #আওয়ামীলীগ #হত্যা #অগ্নিসংযোগ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















